যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটির রাজবন বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল সকালে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা দেশ-জাতি তথা জগতের সব প্রাণির মঙ্গল কামনায় ভিক্ষুদের (ধর্মীয় গুরু) কাছ থেকে পঞ্চশীল গ্রহণ করেন। এরপর বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘ দান, অষ্ট পরিষ্কার দান, কল্পতরু দানসহ
নানাবিধ দান সম্পন্ন হয়েছে। বিকালে ভান্তেদের কঠিন চীবর দানের মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে চীবর দানোৎসব।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রাচীন তীর্থস্থানখ্যাত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রাঙ্গামাটির রাজবন বিহারে দুদিনব্যাপী ৪৯তম দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু হয় বৃহস্পতিবার। এদিন বিকালে বেইনকর্মীদের পঞ্চশীল গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রথম দিনের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। এরপর বেইন ঘর উদ্বোধন, সুতা লাগানো, রঙ করা, রাতভর বেইনবুনাসহ প্রথম দিনের অন্যান্য ধর্মীয় কাজ সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় দিন গতকাল ভোর ৬টা থেকে শুরু হয় কঠিন দান অনুষ্ঠানের শেষ দিনের আনুষ্ঠানিকতা।
শেষ দিন কঠিন চীবর দানোৎসবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, চাকমা সার্কেল চিফ দেবাশীষ রায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অং সুই প্রু চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, চাকমা সার্কেল চিফের সহধর্মিণী য়েন য়েন প্রমুখ।
চীবর দানোৎসবে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও খাগড়াছড়ি-বান্দরবানসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ছুটে আসেন। আজ থেকে এক মাস রাজবন বিহার মাঠে আকাশ প্রদীপ জ্বালানো হবে বলে জানিয়েছেন বিহারসংশ্লিষ্টরা।