গতকাল নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে হতদরিদ্রদের মধ্যে সাবমার্সিবল পাম্প, কৃষকদের মাঝে স্প্রে মেশিন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণের মাঝে কর্মসহায়ক উপকরণ ও বৃত্তি প্রদান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়াসামগ্রী প্রদান শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাগ্রহণকে অবৈতনিক করা হয়েছে। সবার সন্তানকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি তাদের মানসিক উৎকর্ষের জন্য খেলাধুলা এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চায় নিয়োজিত করতে হবে। মাদক ও অনলাইন জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধির হাত থেকে আমাদের সন্তানকে রক্ষা করতে হবে। এ ব্যাপারে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’
ফারজানা শারমিন বলেন, ‘এ দেশে কোনো শ্রেণী-পেশার মানুষ আর অবহেলিত থাকবে না। সরকার নতুন বাজেট দিয়েছে। জনবান্ধব এ বাজেট জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ করে দেশকে স্বনির্ভর বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবে।’
আগামী অর্থবছরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশে ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রদত্ত বিভিন্ন ভাতার পরিধি বাড়বে, দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় চিকিৎসা সহায়তাকে ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করা হচ্ছে। গ্রামীণ জনপদে দ্রুততম সময়ে যেকোনো বিরোধ নিষ্পত্তি করতে গ্রাম আদালত কাজ করছে।’
জেলা পর্যায়ে লিগ্যাল এইড কমিটির মাধ্যমে বিনামূল্যে একজন সহকারী জজের মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি করে দেয়া হচ্ছে। আদালতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলাও বিনামূল্যে পরিচালনা করে দেয়া হচ্ছে। দেশে কোনো মানুষ আর অসহায় থাকবে না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ বসাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাগাতিপাড়া থানার ওসি আব্দুল হান্নান, বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রশীদ চৌধুরী এবং বাগাতিপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. মোশাররফ হোসেন।
প্রতিমন্ত্রী এর আগে উপজেলা খাদ্যগুদামে চলতি মৌসুমে বোরো সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। তিনি বাগাতিপাড়া জিমনেশিয়ামে স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রামও উদ্বোধন করেন।
প্রতিমন্ত্রী পরে লালপুর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে চাল, সেলাই মেশিন এবং হুইল চেয়ার বিতরণ করেন।