গাইবান্ধা

ভিডিওতে প্রতারিত হওয়ার কথা জানিয়ে কিশোরীর আত্মহত্যা

মৃত্যুর আগে ভিডিওতে নিহত চম্পা আক্তার বলেন, ‘শাকিল আমাকে বিয়ে করবে বলে ওর বোনের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিয়ের জন্য বললে বিয়ে করবে না বলে জানিয়ে দেয় শাকিল। বিষয়টি শাকিলের পরিবার জানে। তারাও বলছে, তুই মর গিয়ে।‘

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে চম্পা আক্তার (১৪) নামের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। মৃত্যুর আগে চম্পা আকতারের এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবারের দাবি, বিয়ের প্রলোভনে ওই মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় চম্পা আক্তার আত্মহত্যা করে।

গত সোমবার রাতে উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের তালুক সর্বানন্দ গ্রামের নিজ বাড়িতে ওই ছাত্রীকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে ঐ দিন বিকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চম্পা আক্তারের মরদেহ নিয়ে আসা হয় বাড়িতে।

নিহত চম্পা আকতার উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের তালুক সর্বানন্দ গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। সে খাজেমুল ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

এদিকে, মৃত্যুর আগে ভিডিওতে নিহত চম্পা আক্তার বলেন, ‘শাকিল আমাকে বিয়ে করবে বলে ওর বোনের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিয়ের জন্য বললে বিয়ে করবে না বলে জানিয়ে দেয় শাকিল। বিষয়টি শাকিলের পরিবার জানে। তারাও বলছে, তুই মর গিয়ে।‘

এ ঘটনায় সোমবার (১৬ জুন) নিহতের মা নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে দুইজনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।

স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনজল গ্রামের হাছেন আলীর ছেলে শাকিল মিয়ার (২০) সঙ্গে চম্পা আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। কয়েক বছর থেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে চম্পার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে শাকিল। সম্প্রতি তারা দুইজন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে আসেন। বিষয়টি উভয়ের পরিবার জানতো। এক পর্যায়ে চম্পা আক্তার বিয়ের জন্য শাকিল মিয়াকে বলে। শাকিল বিয়েতে রাজি না হয়ে তাকে আত্মহত্যা করার জন্য বলে। এর কিছুদিন পর শাকিলের আত্নীয় সর্বানন্দ গ্রামের সোনা মিয়া নিহত চম্পা আক্তারকে কীটনাশন এনে দেন। এরপর গত ১৫ মে পরিবারের অজান্তে চম্পা আক্তার ওই কীটনাশক পান করে অসুস্থ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ ৩১ দিন পর গত সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান।

চম্পার পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের সম্পর্কের বিষয়টি শাকিলের পরিবার জানতো এবং বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে। তবে চম্পাকে বাড়ির বউ করতে রাজি হয়নি অভিযুক্ত শাকিলের পরিবার। এ কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল চম্পা। শাকিল মিয়ার প্ররোচনায় চম্পা আত্মহত্যা করেছে।

সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় একটি মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আরও