সংসদে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

সাইবার সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি প্রণয়ন করছে সরকার

দেশের সাইবার নিরাপত্তা কাঠামো আরো শক্তিশালী করতে সরকার ‘সাইবার সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি (২০২৬-২০৩০)’ প্রণয়নের কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

জাতীয় সংসদে গতকাল গাজীপুর-৫ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলনের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা দেশের সাইবার নিরাপত্তা আরো জোরদারের লক্ষ্যে সাইবার সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি (২০২৬-২০৩০) প্রণয়নের কাজ করছে। এর প্রাথমিক খসড়া এরই মধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।’

অন্য এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনকে মন্ত্রী জানান, জনগণের জন্য ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবা আরো সাশ্রয়ী করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যবহারের ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে আনতে সরকার “‍ওয়ান কান্ট্রি, ওয়ান রেট” নীতি বাস্তবায়ন করেছে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সব ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) এবং আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়েকে (আইআইজি) ইন্টারনেটের মূল্য কমিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাগালের মধ্যে আনার নির্দেশনা দিয়েছে।’

মন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিটিআরসি ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের নতুন ট্যারিফ নির্ধারণ করে। এর আওতায় ৫ এমবিপিএস সংযোগের মাসিক মূল্য ৪০০ টাকা, ১০ এমবিপিএস ৫০০, ২০ এমবিপিএস ৮০০ এবং ৪০ এমবিপিএস সংযোগের মূল্য ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নওগাঁ-৫ আসনের সরকারি দলের আরেক সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলুর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের সব এলাকায় এরই মধ্যে ফোরজি প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে এবং বাণিজ্যিকভাবে ফাইভজি সেবা সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে।

তিনি জানান, বর্তমানে ঢাকার বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকা ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রসহ প্রায় ৪০টি স্থানে সীমিত পরিসরে ফাইভজি সেবা চালু রয়েছে।

রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, খুলনা ও সিলেট বিভাগীয় শহরসহ কক্সবাজারের ৪০০টিরও বেশি স্থানে সীমিত পরিসরে ফাইভজি সেবা চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘সবার জন্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট’ বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) বর্তমানে কক্সবাজার ও কুয়াকাটার ল্যান্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে দুটি সাবমেরিন কেবল ব্যবস্থা সী-মি-উই-৪ এবং সী-মি-উই-৫ পরিচালনা করছে। এ দুটি ব্যবস্থার সম্মিলিত ব্যান্ডউইডথ সক্ষমতা ৭ হাজার ২২০ জিবিপিএস।’ বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ১০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সারা দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা ৯৯ দশমিক ৯৯৯ শতাংশ বজায় রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘চলমান সী-মি-উই-৬ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ফাইভজি সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং গ্রামীণ এলাকায় ব্রডব্যান্ড সম্প্রসারণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রকল্পটি চালু হলে অতিরিক্ত ৩০ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ যুক্ত হবে। ফলে দেশের মোট আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ সক্ষমতা প্রায় ৩৮ হাজার জিবিপিএসে উন্নীত হবে।’

আরও