১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে

সাতবার সময় বৃদ্ধি, ছয় বছরেও শেষ হয়নি ১৫ মাসের কাজ

মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়ায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ ছয় বছরেও শেষ হয়নি।

২০২০ সালের ১৭ অক্টোবর ৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনতলাবিশিষ্ট দুটি ভবন, সীমানাপ্রাচীর, সিকিউরিটি রুমসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কার্যাদেশ পায় ফরিদপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শ্রাবণী কনস্ট্রাকশন। চুক্তি অনুযায়ী ১৫ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা সম্ভব হয়নি। পরে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে সাত দফা সময় বাড়ানো হলেও নির্মাণকাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়। হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় নড়াইল, মাগুরা ও ফরিদপুর জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ করে হাসপাতালটি চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরজমিনে দেখা যায়, নড়াইল জেলার সীমান্তবর্তী লাহুড়িয়ায় পাকা সড়কের পাশে ৬০ শতাংশ জমির ওপর নির্মাণ হয়েছে ১০ শয্যাবিশিষ্ট তিনতলা হাসপাতাল ভবন। পাশেই রয়েছে ছয়টি পরিবারের বসবাস উপযোগী তিনতলা আবাসিক ভবন। সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হলেও মূল ফটকে এখনো গেট বসানো হয়নি। হাসপাতাল চত্বরে মাটি ভরাটের কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। ভবনগুলোর ফিনিশিং ও রঙের কাজ শেষ হয়নি। অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগসহ বেশকিছু কাজ এখনো বাকি। পুরো চত্বরে আগাছা ও লতাপাতার বিস্তার দেখা গেছে।

নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পুরনো ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, তিন জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় হাসপাতালটি চালু হলে নড়াইল, মাগুরা ও ফরিদপুর জেলার অন্তত ১০টি ইউনিয়নের মানুষ সহজেই চিকিৎসাসেবা পেত। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, নবজাতক ও শিশুদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখত। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় জরুরি চিকিৎসার জন্য এখনো মানুষকে নড়াইল, মাগুরা কিংবা ফরিদপুর জেলা শহরে ছুটতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুই-ই অপচয় হচ্ছে।

লাহুড়িয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাহিলা বেগম বলেন, ‘হাসপাতালটা চালু না হওয়ায় মেয়ে ও ছেলের বউদের নিয়ে ৩০-৪০ কিলোমিটার দূরে নড়াইল, মাগুরা কিংবা যশোরে যেতে হয়। এটি চালু হলে বাড়ির কাছেই চিকিৎসাসেবা পাওয়া যেত।’

কালিশংকরপুর গ্রামের নূর ইসলাম বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরে ভবনটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। জনগণের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত কাজ শেষ করা জরুরি।’

একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ওজিফা খানম বলেন, ‘চিকিৎসাসেবা নিতে লোহাগড়া উপজেলা সদরে যেতে প্রায় ২৫ কিলোমিটার এবং নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে যেতে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। জরুরি সময়ে গর্ভবতী নারী, নবজাতক ও শিশুদের নিয়ে এত দূর যাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ।’

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি) নড়াইলের সহকারী প্রকৌশলী অশোক কুমার দত্ত বলেন, ‘প্রকল্পের প্রায় ৮৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৩ কোটি ১৩ লাখ ৮০ হাজার ৯৩ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। সাতবার মেয়াদ বাড়ানোর পর ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়। পুরনো ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং ঠিকাদার যাচাই-বাছাই চলছে। তিন-চার মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। এরপর হাসপাতালটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা যাবে।’

আরও