দেড় যুগ পর আরিচা-কাজীরহাট নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু

১৯৬৩ সালের ৩১ মার্চ আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে প্রথম ফেরি চলাচল শুরু হয়। একসময় এ নৌরুটে প্রতিদিন ২৮টি ফেরি দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা হতো। যমুনা সেতু চালুর পর গুরুত্ব কমতে থাকে আরিচা ঘাটের।

১৯৬৩ সালের ৩১ মার্চ আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে প্রথম ফেরি চলাচল শুরু হয়। একসময় নৌরুটে প্রতিদিন ২৮টি ফেরি দিয়ে যানবাহন যাত্রী পারাপার করা হতো। যমুনা সেতু চালুর পর গুরুত্ব কমতে থাকে আরিচা ঘাটের। পাশাপাশি পদ্মা-যমুনায় নাব্য সংকট দূরত্ব কমানোর জন্য ২০০১ সালের ২২ ফেরুয়ারি আরিচা থেকে পাটুরিয়ায় স্থানান্তর করা হয় ফেরি সার্ভিস। ২০০২ সালের ১৫ নভেম্বর আরিচা ঘাট থেকে শেষ দুটি পন্টুন পাটুরিয়া ঘাটে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে বন্ধ হয়ে যাওয়া রুটটি পুনরায় চালু করতে গত বছর থেকে উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এজন্য যমুনার বিভিন্ন পয়েন্টে সার্ভে, ড্রেজিংসহ বিভিন্ন কাজ এগিয়ে নেয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ফেব্রুয়ারি রুটে পরীক্ষামূলকভাবে একটি ফেরি চলাচল শুরু করে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করেন। প্রাথমিকভাবে রুটে দৈনিক দুটি ফেরি চলাচল করবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রুট ব্যবহার করে আরিচা থেকে পাবনা কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ঢাকায় যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও গতি আসবে।

ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু করতে যমুনা নদীতে নতুন করে চ্যানেল তৈরিতে ১২ লাখ ঘনমিটার বালি ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে। দুপারের ঘাট-পন্টুন নির্মাণ, বিকন বাতি, মার্কিং বাতিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৪ কোটি টাকা।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর নতুন করে ফেরি চলাচল শুরুর বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, বিআইডব্লিউটিসি বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণেই দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল আরিচা-কাজিরহাট নৌরুট। বছর দুয়েক আগে ফেরি চলাচল চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু নাব্য সংকটসহ নানা জটিলতায় শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে গত বছর পুনরায় নৌরুট চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে যমুনা নদীতে নতুন করে চ্যানেল তৈরিতে ১২ লাখ ঘনমিটার বালি ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে। দুপারের ঘাট-পন্টুন নির্মাণ, বিকন বাতি, মার্কিং বাতিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়। তবে এবার সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের মতো আর বন্ধ হয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক জানান, বিআইডব্লিউটিএর এখন ৪৫টি ড্রেজার রয়েছে। এখন ড্রেজিং সক্ষমতা ভালো। কাজেই নাব্য সংকটের অজুহাতে এখন ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

আরও