চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে ৫৪ বছর পর নারী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ৮টি কেন্দ্রে নারী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগসহ নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, চাঁদপুর-৪ নির্বাচনী আসনের এ ইউনিয়নে ১৯৭০ সাল থেকে নারীরা ভোটকেন্দ্রে যান না। দীর্ঘদিনের এ প্রথা ভাঙতে এবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নারী ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রের সব দায়িত্বে শুধুই নারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পর্দার বিধান মেনে নারীরা যেন আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের ৮টি কেন্দ্রে নারী ভোটারদের জন্য ২০টি বুথ তৈরি করা হয়েছে। এসব বুথে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নারীদের রাখা হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ ও আনসার সদস্য এবং ৮টি কেন্দ্রের জন্য একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। প্রার্থীদেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন তারা বুথগুলোতে নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে জানা গেছে, ১৯৭০ সালে জৈনপুরের পীরের অনুরোধ মেনে এ ইউনিয়নের নারীরা ভোট দেয়া বন্ধ করে দেন। মাঝেমধ্যে প্রার্থীর নিকটাত্মীয়রা ভোট দিলেও সাধারণ নারীদের অংশগ্রহণ ছিল না বললেই চলে। অথচ হাট-বাজারসহ দৈনন্দিন সব কাজেই এ ইউনিয়নের নারীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম সরকার এবার নারীদের ভোট প্রদান নিশ্চিত করতে এ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ইউনিয়নটিতে মোট নারী ভোটারের সংখ্যা ১০ হাজার ২৯৯ জন। উপজেলা প্রশাসন আশা করছে, সব কর্মকর্তা নারী হওয়ায় ও পর্দার পরিবেশ নিশ্চিত থাকায় এবার বিপুল সংখ্যক নারীরা কেন্দ্রে আসবেন ও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।