জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ অর্থবছরের লক্ষ্য অর্জনে সুশাসন, রাজস্ব ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেন, বাজেটে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আজ বৃহস্পতিবার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: অগ্রাধিকার ও পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ সেমিনারে দেশের তিনজন খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ জাতীয় বাজেট সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যতের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের রফতানি খাত ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজ করতে এ বাজেটে শুল্ক হ্রাসসহ বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি অর্জিত না হওয়ায় আগামী অর্থবছরে আরো ১৮ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় করা কঠিন হবে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরো বলেন, ঋণের সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। ফলে বড় প্রকল্পগুলোর মূল ঋণ পরিশোধের সময় দেশে দীর্ঘমেয়াদে ঋণের চাপ আরো বাড়তে পারে।
সেমিনারে আলোচক হিসেবে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এ. কে. এনামুল হক বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাতে হলে সর্বগ্রাসী দুর্নীতি কমাতে হবে। এজন্য দেশে নগদবিহীন লেনদেন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, বাজেটে প্রথমবারের মতো প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য কিছু সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে, যা ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে দেশে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য কমানোর জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
জ্বালানি ঘাটতি মোকাবেলায় দিনাজপুরের কয়লা উত্তোলনের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়েও সরকারের প্রতি পরামর্শ দেন তিনি।
আলোচকরা তাদের বক্তব্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে বাজেটের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা বাজেট-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচকদের মতামত জানতে চান।