সমন্বয় সভা

বৈশ্বিক অপরাধের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়তে চায় পুলিশ

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় অপরাধের ধরন আরো বিস্তৃত ও জটিল হয়ে উঠেছে। সহিংস উগ্রবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ, ডিজিটাল জালিয়াতি, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, মানব পাচার, অনলাইন জুয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অপরাধ, ভুয়া ছবি, ভুল তথ্য ও অপতথ্য এখন কোনো একক দেশের সমস্যা নয়, বরং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। এসব অপরাধের সঙ্গে একাধিক দেশের বিচারব্যবস্থা, বিদেশী নাগরিক, সীমান্তপারের লেনদেন ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক জড়িত থাকায় শক্তিশালী কূটনৈতিক অংশীদারত্ব এখন অপরিহার্য।

বৈশ্বিক অপরাধের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কার্যকর সহযোগিতা, তথ্য বিনিময় ও সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ পুলিশ। এ লক্ষ্যে আজ সোমবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে প্রথমবারের মতো কূটনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, তথ্য বিনিময় ও সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। সভায় ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তা, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক বেলাল উদ্দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় অপরাধের ধরন আরো বিস্তৃত ও জটিল হয়ে উঠেছে। সহিংস উগ্রবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ, ডিজিটাল জালিয়াতি, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, মানব পাচার, অনলাইন জুয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অপরাধ, ভুয়া ছবি, ভুল তথ্য ও অপতথ্য এখন কোনো একক দেশের সমস্যা নয়, বরং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। এসব অপরাধের সঙ্গে একাধিক দেশের বিচারব্যবস্থা, বিদেশী নাগরিক, সীমান্তপারের লেনদেন ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক জড়িত থাকায় শক্তিশালী কূটনৈতিক অংশীদারত্ব এখন অপরিহার্য।

প্রবন্ধে আরো বলা হয়, পুলিশ সদর দপ্তরের বিদেশবিষয়ক শাখা, জাতীয় কেন্দ্রীয় ব্যুরো, জাতিসংঘ কার্যক্রম শাখা, ঢাকা মহানগর পুলিশ, বিশেষ শাখা, অপরাধ তদন্ত বিভাগ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এবং সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক তদন্তে নিয়মিত সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং কূটনৈতিক সম্পৃক্ততায়ও বাংলাদেশ পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। অপরাধ দমনে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময় ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরা হয়।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম কূটনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগ কূটনীতিকদের নিরাপত্তায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে। দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তার জন্য একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিরাপত্তাবিষয়ক সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান বিশ্বে এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের সমন্বয়, তথ্য বিনিময় ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ যেমন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করছে, তেমনি সাইবার অপরাধ, আর্থিক অপরাধ এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবেলায়ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তুলছে।

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ শুধু দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থারও একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার। ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয়ার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি এ অঙ্গীকারের সূচনা হয়। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সমন্বয়ের ওপর নির্ভরশীল। এ লক্ষ্যেই দূতাবাস ও বিদেশী সংস্থাগুলোকে বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইউনিটগুলোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে দ্রুত যোগাযোগ, সমন্বয় ও কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত হবে। তিনি তথ্য বিনিময়, সমন্বয় ও নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভায় মূল প্রবন্ধের ওপর উন্মুক্ত আলোচনা হয়। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে পুলিশ সদর দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান, উপমহাপরিদর্শক তাপতুন নাসরীন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মহিউল ইসলাম অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

বিদেশী কূটনীতিকরা বাংলাদেশ পুলিশের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতেও যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সভায় অর্থ পাচার, আর্থিক অপরাধ, সাইবার অপরাধ, মানব পাচারসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমন্বয় এবং তথ্য বিনিময় আরো জোরদারের সুপারিশ করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

আরও