দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এ দেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার বড় সুযোগ তৈরি করেছে। ক্রমবর্ধমান যাত্রী ও কার্গো পরিবহন, বিমানবন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগের ফলে এ সম্ভাবনা আরো জোরালো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডর নূর এ আলম।
আজ শনিবার বিকালে রাজধানীর কুর্মিটোলার ইউনাইটেড কনভেশন সেন্টারের দ্য প্রেস্টিজে ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে তিনি এ কথা বলেন। এ কনক্লেভের আয়োজন করেছে দৈনিক বণিক বার্তা।
নূর এ আলম বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিশ্বের ৫৬টি দেশের সঙ্গে এয়ার সার্ভিসেস এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করেছে। বর্তমানে দেশে ৩৪টি বিদেশী যাত্রীবাহী এয়ারলাইন্স, ৭টি কার্গো এয়ারলাইন্স এবং ৪টি দেশীয় এয়ারলাইন্স নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলো বর্তমানে ১৭টি দেশের ২৫টি গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
এয়ার কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৩ সালে মোট কার্গো পরিবহন ছিল প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার ৫৩৫ দশমিক ৪৬ মেট্রিক টন। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৬৯ মেট্রিক টনে দাঁড়ায় এবং ২০২৫ সালেও প্রায় ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩৪৪ দশমিক ৪৬ মেট্রিক টন কার্গো পরিবহন করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, দেশের এভিয়েশন অবকাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। বর্তমানে টার্মিনাল ১ ও ২-এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৮০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেয়ার সক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে ১ কোটি ২৬ লাখেরও বেশি যাত্রীকে সেবা দেয়া হচ্ছে। তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে অতিরিক্ত ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রীর সক্ষমতা তৈরি হবে। এতে বিমানবন্দরের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ কোটির উপরে উন্নীত হবে।
তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বর্তমান টার্মিনালগুলোর প্রায় ১ লাখ বর্গমিটার আয়তনের সঙ্গে তৃতীয় টার্মিনালের ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার যুক্ত হয়ে মোট আয়তন দাঁড়াবে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার। আমদানি কার্গো ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা ৮৪ হাজার টন থেকে বেড়ে ৩ লাখ ৫৭ হাজার টনে এবং রপ্তানি কার্গো সক্ষমতা ৭ লাখ ৪৭ হাজার টনে উন্নীত হবে।
এছাড়া যাত্রীসেবার ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। চেকইন কাউন্টার ৬২টি থেকে বেড়ে ১৮৯টি এবং পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণ বা ইমিগ্রেশন কাউন্টার ১০৭ টি থেকে ২৩৬টিতে উন্নীত হবে বলেও তিনি জানান।
এর পাশাপাশি, ভবিষ্যতে বোর্ডিং গেটের সংখ্যা ৩৪টিতে উন্নীত করার সুযোগ থাকবে। কার পার্কিং সুবিধাও ৮০০টি গাড়ি থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৩০টি গাড়িতে উন্নীত করা হবে। আমি দৃঢভাবে বিশ্বাস করি তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে এটি শুধু বাংলাদেশে মাইলফলক সৃষ্টি করবে না, বরং সম্মানীত যাত্রীদের জন্য আরো আধুনিক, নিরাপদ, সাচ্ছন্দ্যময় ও বিশ্বমানের ভ্রমন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।