নেত্রকোনায় কংস নদীভাঙন আতঙ্কে ২০ গ্রামের মানুষ

নেত্রকোনার সদর উপজেলার কালিয়ারা-গাবরাগাতী ইউনিয়ন ও বারহাট্টা উপজেলার বাউশি ইউনিয়ন-সংলগ্ন কংস নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

এতে নদী-তীরবর্তী জনপদে উদ্বেগ বাড়ছে। বছরের পর বছর ধরে চলা ভাঙনে এরই মধ্যে প্রায় ১৫-২০টি গ্রামে বিলীন হয়েছে কয়েক শতাধিক বসতবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা ও বনাঞ্চল। এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে মুক্তিরবাজার, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ-মন্দির এবং কয়েকটি গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সড়ক।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে বাহিরকান্দা, নেওবদ, হরিদাসপুর, কাকিয়াকুড়ি, মহিষাশুড়া, চকারকান্দা, সেহড়াউদ ও কর্ণখলাসহ অন্তত ২০টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে ভাঙন আরো তীব্র হয়। ফলে নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলা সদরের সাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুক্তিরবাজার, স্থানীয় মসজিদ ও মন্দির, ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন এলাকা এবং বিভিন্ন গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রধান সড়ক।

এছাড়া বারহাট্টা উপজেলার বাউশি ইউনিয়নের সাধুয়ারকান্দা এলাকায় নদীভাঙনের কারণে সাধুয়ারকান্দা, হাঁটখলা, চাঁনপুর, নতুন শেখেরপাড়া ও দেওপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কংসের শাখা গোলামখালী নদী-তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। এরই মধ্যে সেখানকার অনেক বাড়িঘর ও কবরস্থান নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া না হলে এসব স্থাপনা ও যোগাযোগব্যবস্থা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাটি রক্ষায় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কংস নদীর ভাঙনে মুক্তিরবাজার ও বাউশি বাজার এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সড়ক দুটি রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষামূলক কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হবে।’

আরও