সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চোরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। তার কেটে নিয়ে যাওয়ায় তিনটি লিফট ও ছয়টি এসি ২৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। জানা গেছে, চুরি যাওয়া এসব তারের বাজারমূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এছাড়া পানির ট্যাপ, লাইট, সুইচ ও স্টিলের রেলিংসহ নানা যন্ত্রপাতি চুরি হওয়ায় হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে।
সংশ্লিস্ট সূত্র জানায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন হাজারেরও বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা নেন। এছাড়া ৫০০ শয্যার এ হাসপাতাল রোগীতে পরিপূর্ণ থাকে। সেবা নিতে আসা রোগীদের অনেকেই তাদের মোবাইল ফোন ও মূল্যবান অন্যান্য জিনিস হারাচ্ছেন। শৌচাগারের জিনিসপত্র, পানি সরবরাহ লাইনের পাইপ, এমনকি এসি ও লিফটের তার কেটে নিয়ে গেছে চোরেরা। এতে হাসপাতালের ১০টি লিফটের মধ্যে তিনটি গত ২৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে রোগী ও সাধারণ মানুষ।
জেলার সলঙ্গ থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা বিলকিস বেগম বলেন, ‘টিকিট কেটে ডাক্তারের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আমার মোবাইল ফোন চুরি হয়ে গেছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালে সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীরা ফোন উদ্ধার করেন। পরে কর্তৃপক্ষের ডাকে পুলিশ এলেও ঝামেলা এড়াতে কোনো অভিযোগ দিইনি।’
সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এটিএম নুরুজ্জামান বলেন, ‘চোরের উপদ্রবে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে রয়েছি। যা পাচ্ছে তা-ই চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুতের তার চুরি করায় তিনটি লিফট ও ছয়টি এসি বন্ধ রয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীর মাধ্যমে চোর ধরা পড়লেও স্থানীয় মানুষ এসে নানা অজুহাতে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশে দিতে দিচ্ছে না। আবার নিরাপত্তারকর্মীর মাধ্যমে চোর ধরা পড়লেও অভিযোগ না দেয়ায় কাজ করতে পারছে না পুলিশ। স্থানীয় একটি চক্র এসব কাজের সঙ্গে জড়িত বলে মনে হয়।’ তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।