যশোরে উৎপাদন হচ্ছে বিদেশী ফুলের চারা

ফুলের রাজ্য হিসেবে পরিচিত যশোরের গদখালী। এক সময় দেশী ফুলের চাষ করতেন এখানকার চাষীরা।

ফুলের রাজ্য হিসেবে পরিচিত যশোরের গদখালী। এক সময় দেশী ফুলের চাষ করতেন এখানকার চাষীরা। তবে এখন দেশীয় প্রজাতির বাইরে গদখালীতে উৎপাদন হচ্ছে নেদারল্যান্ডসের লিলিয়াম, এস্টোমা ও জারবেরা ফুলের চারা। এক সময় ভারত থেকে উচ্চ মূল্যে আমদানি করা হতো এসব ফুলের চারা। এখন দেশেই টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করছে আরআরএফ নামে একটি বেসরকারি সংস্থা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আপাতত চাহিদার তুলনায় কম চারা উৎপাদন হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে বিদেশী এসব ফুলের চারা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে দেশ। এতে কমবে বিদেশনির্ভরতা।

ঝিকরগাছার সাজেদা বেগম এক দশকের বেশি সময় ধরে উপজেলার পানিসারাতে চাষ করছেন বিভিন্ন জাতের ফুল। বছর পাঁচেক ধরে শুরু করেছেন জারবেরা ফুল চাষ। আগে ভারত থেকে চারা আমদানি করে চাষ করলেও এখন আরআরএফ সংস্থার টিস্যু কালচার ল্যাবে উৎপাদিত চারা নিচ্ছেন। আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেক দামে এখান থেকে চারা পাচ্ছেন তিনি।

এ নারী উদ্যোক্তা বলেন, ‘ভারত থেকে প্রতি পিস চারা আনতে ১০০ টাকার বেশি খরচ পড়ত। নিজে গিয়ে আনতে পারতাম না। তাই পছন্দের রঙ ও জাতের ফুলের চারা দেয়া হতো না। এখন যশোরে আরআরএফ নামে একটি সংস্থার ল্যাব থেকে পছন্দের চারা আনতে পারছি। কম দামে ও সময়মতো চারা এনে সঠিক সময়ে রোপণও করতে পারছি।’

আরআরএফ ল্যাবের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হোসাইন আহমেদ বলেন, ‘ভারত থেকে আমদানির চেয়ে দেশীয় ল্যাবে উৎপাদিত এসব চারার মান ভালো। চাষীদের চারা দেয়ার আগে আমরা জাত, রঙ ও মান দেখিয়ে সরবরাহ করি। এতে তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত চারা পাচ্ছেন। তবে প্রতি মাসে ২৫ হাজারের বেশি চাহিদা থাকলেও উৎপাদন হচ্ছে পাঁচ হাজার। এটা বাড়ানোর জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি।’

আরআরএফের সিনিয়র সহকারী পরিচালক অসিত বরণ মণ্ডল বলেন, ‘চাষীরা আগে ফুলের চারা ভারত থেকে আমদানি করতেন উচ্চ দামে। আমাদের ফুলের চারার দামও অর্ধেক। শুরু থেকে যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পর্যন্ত চারাগুলো যাচ্ছে। চাষীদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে আরআরএফ। এছাড়া মাঠে ফুল চাষে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হলে আমাদের মাঠ কর্মীরা সহযোগিতা করছেন। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিদেশী ফুলের চারা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে বাংলাদেশ। এতে একদিকে যেমন কমবে আমদানিনির্ভরতা, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে।’

আরও