খরা মোকাবেলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা ও ন্যায্য পানি বণ্টনের আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর

মন্ত্রী জানান, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ৫ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন হেক্টর জমি খরাপ্রবণ। এসব এলাকায় প্রায় ১৬ হাজার গভীর নলকূপ দিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি তোলার কারণে অনেক স্থানে পানির স্তর দ্রুত নিচে নামছে। এ কারণে নতুন সেচ কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি আবহাওয়া তথ্য ব্যবস্থা ব্যবহার করে খরার সূচক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কৃষকদের মুঠোফোনের খুদে বার্তা, কণ্ঠসেবা ও মুঠোফোনের অ্যাপের মাধ্যমে ফসলভিত্তিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

খরা সহনশীলতা জোরদারে আঞ্চলিক সহযোগিতা, ন্যায্য পানি বণ্টন, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা ও উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। আজ মঙ্গলবার মঙ্গোলিয়ার উলানবাটরে জাতিসংঘের মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশনের ১৭তম সম্মেলনের ‘খরা সহনশীলতা ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে খরা ও ভূমি অবক্ষয় পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিয়মিত খরা দেখা দিচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমছে। অন্যদিকে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত পানি কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎসের ক্ষতি করছে। বন্যা ও নদীভাঙন এ সংকটকে আরো জটিল করে তুলছে।

তিনি জানান, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ৫ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন হেক্টর জমি খরাপ্রবণ। এসব এলাকায় প্রায় ১৬ হাজার গভীর নলকূপ দিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি তোলার কারণে অনেক স্থানে পানির স্তর দ্রুত নিচে নামছে। এ কারণে নতুন সেচ কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি আবহাওয়া তথ্য ব্যবস্থা ব্যবহার করে খরার সূচক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কৃষকদের মুঠোফোনের খুদে বার্তা, কণ্ঠসেবা ও মুঠোফোনের অ্যাপের মাধ্যমে ফসলভিত্তিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, জাতীয় সবুজ কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকৃতিনির্ভর খরা মোকাবেলার অংশ হিসেবে আগামী ৫ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে ভূপৃষ্ঠের পানির প্রাপ্যতা বাড়বে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে। বাংলাদেশের এ অভিজ্ঞতা পানিসংকটপ্রবণ অন্যান্য দেশও কাজে লাগাতে পারবে।

উপকূলীয় এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে লবণাক্ত পানি কৃষিজমি ও খাবার পানির উৎসে ঢুকছে। এতে লাখো মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। এ সংকট মোকাবেলায় জাতীয় সবুজ কর্মসূচির আওতায় উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন সম্প্রসারণের কাজও এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

তিনি গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা ভূমি অবক্ষয় মোকাবেলারও গুরুত্বপূর্ণ উপায়। খরা সহনশীলতা গড়ে তুলতে অববাহিকাভিত্তিক সহযোগিতা ও ন্যায্য পানি বণ্টনকে মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় ২০৫০ সাল পর্যন্ত খরা মোকাবেলার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক খরা সহনশীলতা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি আবহাওয়া তথ্য ব্যবস্থার তথ্য ওই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন। খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল ফসলের জাত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে প্রযুক্তি হস্তান্তর আরো জোরদারের আহ্বানও জানান তিনি।

বাংলাদেশ খরা ও ভূমি অবক্ষয়ের তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে আবদুল আউয়াল মিন্টু জাতিসংঘের মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশনের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আগাম প্রস্তুতিমূলক, পর্যাপ্ত অর্থায়নসমৃদ্ধ এবং কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতাভিত্তিক আন্তর্জাতিক খরা সহনশীলতা কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সভায় বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও প্রতিনিধিদলের প্রধানেরা অংশ নেন। পর্যবেক্ষক হিসেবে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা, জাতিসংঘ শিশু তহবিল, জাতিসংঘ দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যালয়, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, কৃষি উন্নয়নের আন্তর্জাতিক তহবিল, এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক, আফ্রিকান ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

আরও