গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অসুস্থ গরু জবাই এবং এর মাংস কাটতে অংশ নেয়া ২০ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে দু-তিনজনের অবস্থা গুরুতর। এ খবরে ওই এলাকায় মানুষের মাঝে অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে কমেছে মাংস বিক্রি।
জানা গেছে, ১১ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব বাছহাটি গ্রামে রোগাক্রান্ত একটি ফ্রিজিয়ান গাভী জবাই করেন মঞ্জুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। আর সেই মাংস কাটায় অংশ নেন বিভিন্ন বয়সের বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ। এর চারদিন পর শরীরে জ্বর আসে চারজনের। পরে কারো পেট, কারো হাত, কারো পা, আবার কারো হাতের আঙুলে দেখা দেয় ফোস্কা। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর আক্রান্ত হন আরো ১০ নারী, পুরুষ ও শিশু। এখন পর্যন্ত অ্যানথ্রাক্সের এসব উপসর্গ ২০ জনের দেহে দেখা গেলেও তিনজনের অবস্থা গুরুতর।
তারা হলেন জয়নাল আবেদীন (৪০), রুমি বেগম (২৯) ও রশিদা বেগম (৫০)। আক্রান্তদের মধ্যে অন্যরা হলেন আব্দুল জলিল, সফিউল ইসলাম (৫০), চান মিয়া (৫৫), শফিক (৫০), জয়নাল আবেদীন (৬০), আব্দুর রশিদ (৪০), গোলেজান বেগম (৪০), রাবেয়া খাতুন (৬৫), রাহেলা খাতুন (৫০), শরিতোন নেছা (৫০), দোলেনা আকতার (৩৫), আজমিন আরা (২৪) ফাহিমাা(৪৫), ফুলমতি বেগম (৫০) ও নুর আকাইদ (৬)। ২০ জনের দেহে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়ায় আতঙ্কে রয়েছে ওই এলাকার মানুষ। ভয়ে ফ্রিজে রাখা বাকি মাংস মাটির নিচে পুঁতে ফেলেছে তারা।
ভুক্তভোগীরা জানান, মঞ্জরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির উন্নত জাতের একটি ফ্রিজিয়ান গাভী অসুস্থ হলে সেটি জবাই করে ১০০ ভাগে ভাগ নেন স্থানীয়রা। এ মাংস কাটতে অংশ নিয়ে অসুস্থ হয়েছেন তারা।
অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত শফিক আলম বলেন, ‘বাড়ির পাশে পাঁচ মণ ওজনের একটি গরু অসুস্থ হয়। কী কারণে অসুস্থ জানি না। কিন্তু সেটা জবাই করার পরে অসুস্থ হয় সবাই।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য সামিউল ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি অসুস্থ গরু জবাই করার নিত-চারদিন পর চারজনের শরীরে প্রচণ্ড জ্বর ও ফোস্কা পড়েছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ নিয়ে পূর্ব বাছহাটি গ্রামের ২০ রোগী জরুরি বিভাগে এসেছে। তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দিয়েছি। আতঙ্কের কিছু নেই। চিকিৎসায় এ রোগ ভালো হয়। আশা করি, তারা সুস্থ হয়ে উঠবে।’