ঈদযাত্রায় মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় যাতায়াতকারী যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কিছুটা বেড়েছে। কাটা লাইন সার্ভিসের লঞ্চ যাত্রীর সংখ্যাও বেড়েছে বেশ। তবে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ অতিরিক্ত না থাকায় স্বস্তিতে পার হচ্ছেন যাত্রীরা। ঘাটের শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত পুলিশ। আলাদা আলাদা লেন দিয়ে ছোট ও বড় যানবাহনগুলো ফেরিতে লোড হতে দেখা গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সকাল থেকেই পাটুরিয়া ফেরিঘাট ঘুরে দেখা যায়, যানবাহনগুলো ঘাটে এসে অনায়াসেই ফেরিতে উঠে যাচ্ছে। তবে লঞ্চ পারের যাত্রীদের কাটা লাইন সার্ভিসের বাসগুলো ঘাটের প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নামিয়ে দিচ্ছে। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে তাদের লঞ্চ ঘাটে পৌঁছাতে দেখা গেছে। এতে ভোগান্তিতে রয়েছে লঞ্চ পারাপারের যাত্রীরা।
আর ভোগান্তি ছাড়া সরাসরি ফেরিতে উঠতে পেরে যানবাহন চালকরা স্বস্তি জানালেও নদী পার হতে সময় বেশী লাগছে বলে অভিযোগ করেন। চালকরা বলেন, নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরিগুলো সরাসরি চ্যানেল দিয়ে যেতে পারছেনা। পাটুরিয়া ঘাট থেকে দুই কিলোমিটার ভাটিতে ঘুরপথে বিকল্প চ্যানেলে রাজবাড়ির দৌলতদিয়া ঘাটে যাচ্ছে। এতে পারাপারে সময় বেশী লাগছে ও ফেরি ট্রিপ সংখ্যা কমে গেছে। আজ যানবাহনের চাপ কিছুটা কম থাকলেও আগামীকাল (শুক্রবার) যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ বাড়লে ঘাটে যানজট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে- জানালেন চালকরা।
বিষয়টি স্বীকার করেছে ফেরি কর্তৃপক্ষ। বিআইডব্লিউটিসি আরিচা অঞ্চলের এজিএম আবদুস সালাম বলেন, ঘুরপথে ফেরিগুলো চলাচল করলেও ঈদযাত্রায় সমস্যা হবে না। ঈদে যাত্রী-যানবাহন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে পারাপারের জন্য পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরির সংখ্যা বাড়িয়ে ১৭টি করা হয়েছে। যানজট নিরসনে ঘাটের এক কিলোমিটার পর্যন্ত ওয়ানওয়ে পদ্ধতিসহ ছোট ও বড় গাড়ির জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঘাটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের স্বাভাবিক সদস্যের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফোর্স, ট্রাফিক পুলিশ, আনসার সদস্য ও র্যাব সদস্য নিয়োজিত রয়েছে।
অজ্ঞান পার্টি কিংবা মলম পার্টি ও ছিনতাইকারী প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানালেন পুলিশ সুপার মুছাম্মৎ ইয়াসমিন খাতুন।