মাদারীপুরের কুমার নদকে কেন্দ্র করে একসময় চরমুগুরিয়া ও টেকেরহাট বন্দর জমজমাট ছিল। তবে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের কারণে নদটি এখন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। মাদারীপুর জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। অবশ্য দ্রুতই এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
নদ এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, কুমার নদে একসময় চলাচল করত বড় বড় জাহাজ। মাদারীপুর জেলা শহরসহ পাট ক্রয়-বিক্রয়ের বাণিজ্যিক কেন্দ্র চরমুগুরিয়া ও দক্ষিণাঞ্চলের একসময়ের অন্যতম বন্দর টেকেরহাট কুমার নদকে কেন্দ্র করে জমজমাট ছিল। দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ এআর হাওলাদার জুট মিলও ছিল কুমার নদের তীরে। কালের বিবর্তনে ও দখল দারিত্বে কুমার নদ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
নদ দখলের অভিযোগ রয়েছে টেকেরহাট বন্দর এলাকার ব্যবসায়ী বাবু খাঁর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার সমিলের সরকারি অনুমোদন আছে। এটার কাগজপত্র সব আপডেট করা। সমিলের কিছু অংশ কুমার নদের জমির মধ্যে পড়েছে। কারণ সমিল তো নদীর পারেই হয়। এতে সমস্যার কী আছে?’
তবে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে নদের পারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সানাউল কাদের খান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘কুমার নদের পারে যেসব অবৈধ স্থাপনা আছে, আমরা সেগুলোর তালিকা তৈরি করব। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুতই উচ্ছেদ করা হবে এসব স্থাপনা।’
মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান বলেন, ‘আমাদের যেসব নদী আছে, সেখানে যেসব অবৈধ দখলদার আছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করব।’
কুমার নদটি রক্ষায় খনন ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরামর্শ দিয়েছেন চরমুগুরিয়া ডিগ্রি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. অহিদুজ্জামান মাসুদ। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী কুমার নদ দখলের কারণে নাব্য হারিয়েছে। নাব্য যাতে ক্রমাগত বৃদ্ধি পায় সেজন্য দখলমুক্ত করতে হবে। নদ খনন ও নদী শাসন করে পানিপ্রবাহ চলমান রাখতে হবে। যখনই এটা চলামান হবে, দখলমুক্ত হবে তখনই নদের জৌলুশ ফিরে আসবে।’