লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান

১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরব

গণভোট নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংবিধানে যদি গণভোট না থাকে, তাহলে কোনো সংবিধান মেনে চব্বিশের গণবিপ্লব হয় নাই। সংবিধানের বাইরে গিয়েই এ ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশ গড়া হয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা চাই কিছু একটা হওয়ার আগেই সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। যদি না হয়, তাহলে বসে বসে আঙুল চুষব না। সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করলেও আমরা প্রতারণা করতে পারব না। সমস্ত অপশক্তি, অন্যায় ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। আমরা বিশ্রাম নেব না। আমরা নেমেছি ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় করতে। সেই অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরব ইনশাআল্লাহ।’

গতকাল রাত সাড়ে ৯টায় রংপুরে ১১ দলের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

গণভোট নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংবিধানে যদি গণভোট না থাকে, তাহলে কোনো সংবিধান মেনে চব্বিশের গণবিপ্লব হয় নাই। সংবিধানের বাইরে গিয়েই এ ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশ গড়া হয়েছে। যদি সংবিধানে গণভোট না থাকে, ২৬ সালে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচনও নাই, কোনো সরকারও নাই। সুতরাং মানতে হলে সবটা মানতে হবে। আর বাদ দিলে সবটা বাদ দেয়ার ঘোষণা দেন। তখন দেখা যাবে কার বুকের পাটা কতটুকু।’

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘নির্বাচনের আগেই মাঠে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম, আল্লাহ যদি আমাদের নির্বাচিত করে সরকার গঠনের সুযোগ দেন, আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ। আমরা বলেছিলাম গোটা উত্তরবঙ্গকে আমরা কৃষির রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলব। নদীগুলোর জীবন আমরা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।’

গতকাল বিকা‌লে বগুড়া মহানগরের মাটিডালী বিমান মোড়ে লংমার্চের পথসভায় তিনি ব‌লেন, ‘দুর্নীতির হার বাড়িয়ে, গণভোটের রায় উপেক্ষা করে ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চৌদ্দশ’ শহীদের আত্মত্যাগকে পাশ কাটিয়ে ১১ দলীয় জোটকে বাধ্য করা হয়েছে দ্বিতীয় লংমার্চে নামতে। মেহেরবানি করে জাতির নিরাপত্তা দিন ও বাংলাদেশকে বাঁচতে দিন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করুন, নতুবা কঠোর লড়াইয়ের মাধ্যমে জনগণের দাবি আদায় করা হবে।’

গতকাল সন্ধ্যায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার চৌমাথা মোড়ে লংমার্চের পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন,‘ যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হতো, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা হতো, দেশে যদি দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হতো এবং কৃষকরা ঠিকমতো সার পেতেন, তাহলে আমাদের লংমার্চ করতে হতো না। আমাদের লংমার্চ কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর খায়েশ পূরণের জন্য নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের কর্মসূচি। আট দফা দাবি কোনো দলের জন্য নয়, জনগণের জন্য। সরকার এসব দাবি মেনে না নিলে ৮ দফা, ৯ দফা, ১০ দফা এক দফায় রূপ নিতে পারে।’

গতকাল সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাস, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

গতকালের পথসভাগুলোতে বক্তব্য রা‌খেন এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপির প্রেসিডেন্ট অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ডা. অলি আহমেদ, (বীর বিক্রম), খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

আরও