কর্মবিরতিতে স্থবির চট্টগ্রাম বন্দর, শ্রমিক নেতাসহ স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেয়ার প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের লাগাতার কর্মবিরতিতে স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরের প্রধান তিনটি টার্মিনালের কার্যক্রম। কনটেইনার ওঠা-নামা বন্ধ থাকায় জেটিতে জাহাজ আটকে আছে। নতুন করে কোনো জাহাজ ভেড়ানোও সম্ভব হচ্ছে না। এতে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বড় ধরনের জটিলতায় পড়লেও সংকট নিরসনে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী কোনো পক্ষ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।

এমন পরিস্থিতিতে বন্দর অচলাবস্থার নেতিবাচক প্রভাব অন্তত রফতানি কার্যক্রমে সীমিত রাখতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, আন্দোলনরত নেতা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণীর স্টেকহোল্ডাররা আজ বুধবার আলোচনায় বসার উদ্যোগ নিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বুধবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বন্দরের চার নম্বর ফটকসহ সব কটি প্রধান ফটকে পণ্যবাহী যানবাহনের আনাগোনা নেই । বন্দরের ভেতরে জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এলাকায়ও পুরোপুরি নীরবতা বিরাজ করছে। বন্দরের অভ্যন্তরে জেটিতে থাকা ১১টি কনটেইনার জাহাজের গ্যান্ট্রি ক্রেন ও জাহাজ ক্রেন গুটিয়ে রাখা হয়েছে। কোথাও কনটেইনার বা পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ চলছে না।

বন্দরের তথ্যমতে, এনসিটি ইজারাবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু হলেও বিকালে আন্দোলনকারীরা লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। এর আগে গত শনিবার থেকে টানা তিন দিন প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন তারা। ২০০৭ সালের পর গত প্রায় দুই দশকে বন্দরে এ ধরনের কর্মসূচি আর দেখা যায়নি বলে জানান শ্রমিক-কর্মচারীদের ।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, বন্দরের অভ্যন্তরে শ্রমিকরা সক্রিয় না থাকায় পণ্যবাহী কনটেইনার পরিচালন ও খালাস কার্যক্রমে সমস্যা হচ্ছে। তবে বহির্নোঙরে খোলা পণ্যবাহী জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য স্থানান্তর যথারীতি চলছে।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বণিক বার্তাকে বলেন, এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া থেকে সরকার সরে না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। শ্রমিক-কর্মচারীরা টানা কর্মসূচি পালন করলেও সংকট নিরসনে কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের আলোচনায় আসছে না

আরও