বঙ্গোপসাগরে জালে উঠল ২২ কেজির দাতিনা, বিক্রি সাড়ে ৩ লাখ টাকায়

মাছ ব্যবসায়ী হারুন মীর জানান, দাতিনা বোল মাছের মণ ৬ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ২২ কেজি ওজনের মাছটি তিনি ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় কিনেছেন। মাছটি বরফ দিয়ে বড় মোকামে নেয়া হবে। পরে সেখান থেকে চট্টগ্রামে পাঠানো হবে। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি

বঙ্গোপসাগরে জালে ধরা পড়া ২২ কেজি ওজনের একটি দাতিনা বোল মাছ বাগেরহাটে ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। এতে প্রতি কেজি মাছের দাম পড়েছে ১৬ হাজার ১৩৬ টাকা। আজ সকালে বাগেরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মিরাজ হাওলদারের আড়তে মাছটি বিক্রি হয়।

মাছটি কিনেছেন মাছ ব্যবসায়ী হারুন মীর। গত ১১ আগস্ট বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বগা গ্রামের ইলিয়াছ হোসেনের মাছ ধরার ট্রলারে মাছটি ধরা পড়ে। ট্রলারটির নাম ‘এফবি মায়ের দোয়া’। এটি ইলিশ মাছ ধরার ট্রলার।

ট্রলারের মালিক ও মাঝি ইলিয়াছ হোসেন জানান, সাগরের আবহাওয়া খারাপ থাকায় ইলিশ মাছ জালে ধরা পড়ছিল না। তাই বাড়ি ফেরার শেষ মুহূর্তে সাগরে জাল ফেলা হয়। রাতে জাল টানার সময় দাতিনা বোল মাছটি ধরা পড়ে।

মাছ ব্যবসায়ী হারুন মীর জানান, দাতিনা বোল মাছের মণ ৬ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ২২ কেজি ওজনের মাছটি তিনি ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় কিনেছেন। মাছটি বরফ দিয়ে বড় মোকামে নেয়া হবে। পরে সেখান থেকে চট্টগ্রামে পাঠানো হবে। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।

উপকূলীয় মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ছোট ছোট জাল সাগরে নিয়ে যাওয়ায় মাছগুলো ছোট থাকতেই ধরা পড়ে। অনেক বছর পর ২২ কেজি ওজনের একটি দাতিনা বোল ধরা পড়েছে। মাছটি প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অনেক দিন পর এমন মাছ পাওয়ায় স্থানীয় জেলেরা আনন্দিত।

মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, চীন, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই মাছের পটকার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মাছটি বড় দামে বিক্রি হওয়ায় স্থানীয় জেলেদের মধ্যে আনন্দ দেখা গেছে। স্থানীয়দের মতে, বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় নদীগুলোতে মাঝেমধ্যে এমন এক-দুটি বিরল মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ে। এসব মাছ বিক্রি করে এক রাতেই কোনো কোনো জেলের ভাগ্য বদলে যায়।

মাছের পটকা ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিশেষ সুতা ও প্রসাধনী তৈরিতেও এর ব্যবহার রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব কাজে মাছের পটকা চড়া দামে বিক্রি হয়।

আরও