জুডিশিয়ারির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এআই -আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যারা বিচারক হিসেবে বসেছেন, আপনারা ন্যায়বিচার করতে বসেছেন।

জুডিশিয়ারির জন্য সামনের দিনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা)। এআইয়ের ওপর নির্ভর করে রায় লেখা, স্বাক্ষর-জবানবন্দি নেয়া হলে ন্যায়বিচার পরাজিত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘এআই এখন এত নিখুঁতভাবে মানুষকে ক্লোন করতে পারছে, এত নিখুঁতভাবে মানুষের কণ্ঠ নকল করতে পারছে, যা আগামী দিনে বিচারকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।’

গতকাল ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (সিএমএম) কনফারেন্স রুমে দুটি ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আইন সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য দেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যারা বিচারক হিসেবে বসেছেন, আপনারা ন্যায়বিচার করতে বসেছেন। সেই ন্যায়বিচারের জায়গাটি সচেতনভাবে রক্ষা করতে হলে, এআইকে মোকাবেলা করতে হলে ডিজিটাল খাতে আপনাদের আরো বেশি পারদর্শী হতে হবে। যুগের চাহিদা মেটাতে, যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার জন্য আপনারা প্রস্তুত আছেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের যে আস্থা, ভরসা ও বিশ্বাসের জায়গা তৈরি হয়েছে, সেটিকে আমরা আরো শাণিত, আরো দৃঢ়, আরো উন্নত করতে চাই। মানুষের আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চাই।’ 

প্রতিদিন নির্ধারিত তারিখে আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করতে বিপুল পরিবহন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়, ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এ কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। এ প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এরই মধ্যে পাইলট প্রকল্পের আওতায় কিছু আসামির ডিজিটাল হাজিরা চালু হয়েছে, যেখানে আসামিরা কারাগারে থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে হাজিরা দেবেন এবং আদালত তা নিশ্চিত করবেন।’ 

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন ৪৬ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন। এ বিপুলসংখ্যক মামলা ২ হাজার ৩০০ জন বিচারকের পক্ষে নিষ্পত্তি করা পাহাড়সম প্রতিবন্ধকতা। এটি তাদের ওপর অনেক সময় অমানবিক চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও মহানগরগুলোতে এ চাপ আরো বেশি। তাই আমরা চিন্তা করছি, যেসব জেলায় মামলার চাপ বেশি, সেখানে এমন বিচারকদের পদায়ন করব, যারা শুধু চাকরি করার জন্য নয়, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে জুডিশিয়াল অ্যাকটিভিজম দেখাতে পারবেন। আমরা বাছাই করে সেরকম কর্মকর্তাদের আনতে চাই।’

তিনি জানান, কোনো কোনো আদালতে দিনে মাত্র ২-৩ ঘণ্টা বিচারকাজ চলে এবং কিছু বিচারক বেলা ১১টায় এসে দুপুর দেড়টা-দুইটার মধ্যে কাজ শেষ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এমন কোনো বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা আয়েশ করে চাকরি করতে চাইলে তাকে এমন জায়গায় পদায়নের ব্যবস্থা করা হবে, যেখানে তিনি আয়েশ করে চাকরি করতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘মামলা দায়েরের আগেই যদি মেডিয়েশনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায়, তাহলে আদালতের ওপর চাপ কমবে। এ কার্যক্রম আমরা এরই মধ্যে ৩০টি জেলায় চালু করেছি এবং সেখানে সাফল্যের হার ৬২ শতাংশের বেশি। ১১টি আইনের অধীনে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে আমরা প্রি-ফাইলিং মেডিয়েশন করছি। ফলে মামলা দায়েরের প্রবাহ যদি আমরা কমাতে পারি এবং আমাদের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা বিদ্যমান মামলা নিষ্পত্তিতে আরেকটু সময় ও নিষ্ঠা দেন, তাহলে আমার মনে হয়, এক বছরের মধ্যেই আমরা অনেক মামলা নিষ্পত্তিতে ভূমিকা রাখতে পারব।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যখন মানবাধিকার কমিশন আইন করলাম, তখন আমরা বিভিন্ন সেক্টরের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের মতামত ও সুপারিশ নিয়ে আইনে অন্তর্ভুক্ত করেছি। গুমসংক্রান্ত আইনের ক্ষেত্রেও একই কাজ করেছি। সাইবার আইনের সংশোধনী যখন ক্যাবিনেটে যায়, তখন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই সাইবার আইন জনগণের সঙ্গে, মানুষের বাকস্বাধীনতার সঙ্গে এতটাই সম্পৃক্ত যে এর বিষয়ে আরো বেশি পাবলিক কনসালটেশন প্রয়োজন। সে কারণে এটি আমরা পাবলিক কনসালটেশনে দিয়ে সবার মতামত নিচ্ছি।’

আরও