স্পেনের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি বহুমুখীকরণ, বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। স্পেনের সেভিয়ায় গতকাল ‘তৃতীয় বাংলাদেশ-স্পেন এক্সপো ২০২৬’ উদ্বোধনকালে তিনি এ গুরুত্ব তুলে ধরেন।
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্পেন-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টির প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা ও রফতানি বহুমুখীকরণের চলমান উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।
এক্সপোতে তৈরি পোশাক, চামড়া, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ, পাটজাত পণ্য, রাসায়নিক ও গৃহস্থালি সামগ্রীসহ বিভিন্ন খাতের প্রায় ৪০টি বাংলাদেশী ও স্প্যানিশ প্রতিষ্ঠান নিজেদের পণ্য প্রদর্শন করে। দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবসার জন্য আর্থিক ও সরবরাহ-সংক্রান্ত সহায়তার বিষয়ও প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়।
উদীয়মান সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে ওষুধ, চামড়া ও জুতা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উন্নত উৎপাদন শিল্পের কথা উল্লেখ করেন শামা ওবায়েদ। এসব খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও ব্যবসার সুযোগ কাজে লাগাতে স্পেনের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশের সোনালি আঁশ পাটের সম্ভাবনা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘টেকসই উপকরণের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক বাজারে পাটের গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে।’ সমসাময়িক ফ্যাশন, নকশা ও পরিবেশবান্ধব ভোগ্যপণ্যে পাটের উদ্ভাবনী ব্যবহার সম্প্রসারণের সুযোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি নকশা, ফ্যাশন ও সাংস্কৃতিক শিল্পসহ সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের বিকাশে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
একদিনের এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও স্পেনের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ আরো ঘনিষ্ঠ হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে স্পেনের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি বহুমুখীকরণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, উদ্ভাবন, সৃজনশীল অর্থনীতি এবং টেকসই উৎপাদনে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।