দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৩ বিলিয়ন ডলার, এফটিএ নিয়ে যৌথ কর্মদল

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগে আরো সুযোগ দেখছে সিঙ্গাপুর

মিচেল লি বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো সিঙ্গাপুরে কর্মরত বাংলাদেশী অভিবাসী শ্রমিকরা, বিশেষ করে নির্মাণ ও সামুদ্রিক সেবা খাতে তাদের অংশগ্রহণ

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরো সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করে সিঙ্গাপুর। বন্দর ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিকস, এভিয়েশন, ডিজিটাল অর্থনীতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়াতে আগ্রহী দেশটি। একই সঙ্গে দুদেশের মধ্যে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) পথ তৈরিতে যৌথ কর্মদল (জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ) কাজ অব্যাহত রয়েছে।

আজ সোমবার ঢাকায় সিঙ্গাপুরের ৬১তম জাতীয় দিবসের সংবর্ধনায় এসব কথা বলেন দেশটির বিদায়ী চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো সিঙ্গাপুরে কর্মরত বাংলাদেশী অভিবাসী শ্রমিকরা, বিশেষ করে নির্মাণ ও সামুদ্রিক সেবা খাতে তাদের অংশগ্রহণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর নবম বৃহত্তম উৎসদেশ। সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রায় ১৩৬ দশমিক ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তিনি জানান, ২০২৫ সালে দুদেশের পণ্যবাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার, যা প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। বাংলাদেশে সিঙ্গাপুরের ক্রমপুঞ্জীভূত প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণও প্রায় ৩ বিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার বা ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

মিচেল লি বলেন, এসব পরিসংখ্যান দুদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের পরিসর তুলে ধরে। তবে এ সম্পর্ক আরো বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

২০২২ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এর আওতায় ঘনিষ্ঠতর অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য একটি যৌথ কর্মগোষ্ঠী গঠনের কাঠামো তৈরি হয়। এ কর্মগোষ্ঠী দুদেশের মধ্যে সম্ভাব্য এফটিএ নিয়ে কাজ করবে।

বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার বিষয়ে সিঙ্গাপুর আশাবাদী উল্লেখ করে মিচেল লি বলেন, বন্দর ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিকস, এভিয়েশন, ডিজিটাল অর্থনীতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো খাতে বাংলাদেশকে অংশীদার হিসেবে দেখতে চায় সিঙ্গাপুর।

দুদেশের সম্পর্ককে শুধু বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। গত দুই বছরে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মিচেল লি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা, ভিসা ও কনস্যুলার নেটওয়ার্কিং সেশন, রান্নাবিষয়ক কর্মশালা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও শিল্প প্রদর্শনীর মাধ্যমে দুদেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ জোরদারের চেষ্টা করা হয়েছে।

আরও