ঝিনাইদহে ১০ বছরেও মেলেনি প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ

ঝিনাইদহে ২০১৪ সালে বসানো হয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ডিপো। ঝিনাইদহ হয়ে গ্যাসলাইন খুলনা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ঝিনাইদহে ২০১৪ সালে বসানো হয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ডিপো। ঝিনাইদহ হয়ে গ্যাসলাইন খুলনা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে গ্যাসের ডিপো ঝিনাইদহে থাকলেও গত ১০ বছরে সংযোগ দেয়া হয়নি শিল্প-কলকারখানায়। বারবার তাগাদা দিলেও বাড়তি টাকা চাওয়ায় পিছিয়ে যেতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

তবে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বলছে, ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী বিসিকের পাশে গ্যাসের ডিপো স্থাপন করা হলেও সংযোগ নেয়ার ইচ্ছা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের মধ্যেও নেই আগ্রহ। শুধু কুষ্টিয়ার বিআরবি কেবল ও খুলনার কিছু ব্যবসায়ী গ্যাস সংযোগ নিয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে গ্যাস সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ফেজ-২-এর আওতায় খুলনা অঞ্চলে গ্যাস সঞ্চালন লাইন প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। এর প্রথম অংশে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পয়েন্ট থেকে সিরাজগঞ্জ, নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদী হয়ে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পর্যন্ত ১৪১ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করা। দ্বিতীয় অংশে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে ঝিনাইদহ যশোর হয়ে খুলনা পর্যন্ত ১৬৫ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করা হয়।

গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের ঝিনাইদহ টাউন বর্ডার স্টেশনের অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন সহকারী ব্যবস্থাপক মীর মোবাশ্বের আলী মিন্টু। তিনি জানান, ২০০৯ সালে পুরো দক্ষিণাঞ্চলে গ্যাস লাইন স্থাপনের প্রস্তাব পাস হয়। ২০১১ সাল থেকে এ অঞ্চলে জমি অধিগ্রহণ শুরু হয়। অধিগ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ৪১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও শৈলকুপার ৫২টি মৌজা থেকে ২৬ ফুট জায়গা নিয়ে ১১৭ একর জমি অধিগ্রহণ করেছে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি। ঝিনাইদহ জেলার ওপর দিয়ে ৫২ কিলোমিটার গ্যাস লাইন তৈরি করা হয়েছে। ২০১৪ সালে পাইপলাইন তৈরি শেষে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এখন পাইপে পর্যাপ্ত গ্যাসও মজুদ রয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধু শিল্প-কলকারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ দেয়ার নিয়ম রয়েছে। সে সঙ্গে টাউন বর্ডার স্টেশনের পাশে একটি সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সংযোগ দেয়ার নিয়ম রয়েছে। সেখান থেকে সাধারণ মানুষ কম টাকায় সিলিন্ডারে ভরে গ্যাস বাসাবাড়িতে ব্যবহার করতে পারবে।

ঝিনাইদহে গ্যাস সংযোগের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানির খুলনা ও ভেড়ামারার ইনচার্জ সুমন মল্লিক বলেন, ‘গ্যাস সরবরাহ করা আমাদের দায়িত্ব নয়। এ কাজটি করে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (এসজিসিএল)। আমার জানা মতে, সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি ঝিনাইদহে কাজ শুরু করেছে। তারা ঝিনাইদহ বিসিক, যশোরের অভয়নগর, নড়াইল অর্থনৈতিক অঞ্চল ও খুলনা বিসিকে গ্যাস সংযোগ দেয়ার কাজ শুরু করেছে।’

ঝিনাইদহ বিসিকের উপব্যবস্থাপক সেলিনা রহমান জানান, সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তারা ঝিনাইদহে এসেছিলেন। তারা ডিপো করবে বিসিক থেকে অনেক দূরে। সেখান থেকে গ্যাসলাইন বিসিক পর্যন্ত আনতে ব্যবসায়ীদের নিজেদের অর্থ ব্যয় করতে হবে। এতে ব্যবসায়ীরা রাজি হননি।

তিনি বলেন, ‘আমরা সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে বলেছি, ডিপোটা বিসিকের আশপাশে করতে। কাছে গ্যাসের ডিপো করা হলে বিসিকের সব ব্যবসায়ীরা সংযোগ নিতে পারবেন।’

এ প্রসঙ্গে বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন জুলিয়াস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঝিনাইদহ বিসিকে ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিসিকের পাশেই গ্যাসের ডিপো। কিন্তু বিসিকে সংযোগ দিতে তারা অনেক টাকা দাবি করছে। বিসিকে গ্যাস সরবরাহ করা হলে মালিকরা অল্প খরচে পণ্য উৎপাদন করতে পারবেন।’

কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ঝিনাইদহ শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান টুকু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিসিকসহ বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যুতের ওপর চাপ কমত। মানুষের জীবনমানও উন্নত হতো। ঝিনাইদহে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ লাইন আছে, তা তো অনেকেই জানে না।’

আরও