বুকভরা বাঁওড়সংলগ্ন মাঠের বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে এক রাতে আটটি ট্রান্সফরমার চুরির ফলে বৈদ্যুতিক সংযোগ না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকার কৃষকরা। এতে ৫০০-৬০০ বিঘা জমির ইরি ধানের আবাদে সেচ দিতে পারছেন না তারা।
হালসা গ্রামে সরজমিনে দেখা গেছে, বাঁওড়পাড়ে বসে আছেন কয়েকজন কৃষক ও পাম্পচালক ওলিয়ার রহমান। তিনি জানান, গত ২৯ মার্চ ভোরে তিনি বাঁওড়পাড়ে স্থাপন করা মোটর চালু করতে যান। তখন মোটর চালু না হওয়ায় দেখতে পান বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ট্রান্সফরমার নেই। এরপর খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন আরো দুটি মোটর চলছে না। পরে জানতে পারেন মোট আটটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে গেছে। বিষয়টি তারা কোতোয়ালি থানা পুলিশকে অবহিত করে জিডি করেন। কৃষি অফিসেও সংবাদ পাঠানো হয়েছে।
কৃষক মোর্শেদ আলী বলেন, চারদিন ধরে সেচ বন্ধ রয়েছে। মাঠে পানি নেই। অথচ সবে ধানের শীষ আসা শুরু হয়েছে।এ মুহূর্তে ধানের মাঠে প্রচুর পানি দরকার। কিন্তু বিদ্যুতের অভাবে পানি দিতে পারছেন না কৃষক। শিগগিরই পানি দিতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন এ অঞ্চলের কৃষক। খবর পেয়ে গতকাল মাঠ পরিদর্শন করেন যশোর সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম ও বিল্লাল হোসেন। তারা জানান, মাঠে এ মুহূর্তে পানির খুবই প্রয়োজন। মাঠে পানি না থাকলে ধান চিটা হয়ে যাবে। এমনকি ফসলও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
হালসা বুকভরা বাঁওড় সমবায় সমিতির সদস্য কৃষক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে ট্রান্সফরমারের জন্য যোগাযোগের পর তারা জানায়, ট্রান্সফরমার কিনে দিলে তারা সংযোগ স্থাপন করে দিতে পারবেন। প্রতিটি ট্রান্সফরমারে খরচ হবে ৪৫-৪৬ হাজার টাকা। অন্যান্য খরচ দিয়ে ৫০ হাজার টাকা। আটটি ট্রান্সফারমার কিনতে খরচ হবে ৪ লাখ টাকা। এ বিপুল পরিমাণ টাকা দেয়া সম্ভব না। বাধ্য হয়ে যদি ট্রান্সফরমার কিনতে হয় তাহলে কৃষককে ঋণ নিতে হবে। এখনই ঋণ পাওয়াও সম্ভব না। ফলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে চলেছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।’ এ বিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসানকেও অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হালসা বুকভরা বাঁওড় সমবায় সমিতির সদস্যরা।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আসাদুজ্জামান খান জানান, প্রতিটি ট্রান্সফরমারের জন্য ৪৫-৫০ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। যাদের প্রয়োজন তারা কিনে দিলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সেটি স্থাপন করে দিতে পারবে।