মরণোত্তর সম্মাননা পেলেন প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান

কর্মজীবনে সাইফুর রহমানের সঙ্গ সব সময় উপভোগ্য ছিল উল্লেখ করে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ব্যুরোক্র্যাসিতে একটা কথা আছে, বসের সামনে যেও না, ঘোড়ার পেছনে যেও না।

বাংলাদেশে ভ্যাট ব্যবস্থার প্রবর্তন, তৈরি পোশাক খাতে ব্যাক টু ব্যাক এলসি, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা চালুসহ অর্থনীতিতে ব্যক্তি খাতের বিকাশ ও নীতি প্রণয়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মরণোত্তর সংবর্ধনা পেলেন প্রয়াত অর্থ, পরিকল্পনা ও বাণিজ্যমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে গতকাল অনুষ্ঠিত বণিক বার্তা ও বিআইডিএসের যৌথ উদ্যোগ ‘গুণীজন সংবর্ধনায়’ প্রয়াত সাবেক অর্থমন্ত্রীর তিন পৌত্রের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও এম সাইফুর রহমানের প্রোর্ট্রেট তুলে দেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। সম্মাননা গ্রহণ করেন এম সাইফুর রহমানের বড় ছেলে এম নাসের রহমানের সন্তান নাবিল ইলহান রহমান এবং মেজো ছেলে এম কায়সার রহমানের দুই সন্তান এম সাফির রহমান ও এম বাসির রহমান।

বণিক বার্তা ও বিআইডিএসের আয়োজনে এটি সপ্তম গুণীজন সংবর্ধনা। এর আগে ২০১৪ সালে অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, ২০১৫ সালে ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন ও ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, ২০১৭ সালে অধ্যাপক রেহমান সোবহান ও ২০১৯ সালে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান ও আবুল মাল আবদুল মুহিতকে সম্মাননা দেয়া হয়। ২০২২ সালে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও ট্রাস্টি অধ্যাপক ড. রওনক জাহানকে সম্মাননা ও প্রয়াত অর্থনীতিবিদ ড. আকবর আলি খানকে মরণোত্তর সম্মাননা দেয়া হয়। ২০২৩ সালে সম্মাননা দেয়া হয় অর্থনীতিবিদ এবিএম মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ও ড. মসিউর রহমানকে।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় শুরু হয় ‘গুণীজন সংবর্ধনার’ সপ্তম আয়োজন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের জীবনের ওপর একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সাইফুর রহমানের জীবন ও কর্মের ওপর আলোকপাত করে স্মৃতিচারণ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমার চাকরি জীবনে ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সাইফুর রহমানের মতো এত চমৎকার একজন মানুষ আরেকজন দেখিনি। গভর্নর থাকাকালে আমি তিনজন অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। সাইফুর রহমান সাহেব বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাপারে কখনই কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেননি। তার মতো রাজনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারক পাওয়া কঠিন।’

কর্মজীবনে সাইফুর রহমানের সঙ্গ সব সময় উপভোগ্য ছিল উল্লেখ করে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ব্যুরোক্র্যাসিতে একটা কথা আছে, বসের সামনে যেও না, ঘোড়ার পেছনে যেও না। ঘোড়ার পেছনে গেলে লাথি খাবে আর বসের সামনে গেলে ধরা খাবে। কিন্তু সাইফুর রহমান ছিলেন এমন একজন বস, যার কাছে যেতে কোনো দ্বিধা-সংকোচ কাজ করত না। তিনি সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে তারপর সিদ্ধান্ত দিতেন। ব্যক্তি হিসেবে, রাজনীতিবিদ হিসেবে তথা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তিনি ছিলেন একজন সুন্দরতম মানুষ।’

সাইফুর রহমানকে স্মরণ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘সাধারণত স্বৈরাচাররা ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার আগে রিজার্ভ খালি করে দিয়ে যায়। এখনো এ পরিস্থিতি দেখছেন। ১৯৯০ সালেও স্বৈরাচার চলে যাওয়ার আগে সবকিছু খালি করে গিয়েছিল। এ রকম একটা পরিস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী হলেন সাইফুর রহমান। তখন রিজার্ভ সংকটে সহায়তা দেয়ার জন্য আইএমএফের সঙ্গে ইএসএএফ (বর্ধিত কাঠামোগত সমন্বয় সুবিধা) নিয়ে আলাপ হচ্ছিল। তখন আইএমএফের পক্ষ থেকে কর ও রাজস্বের অনুপাত দশমিক ৫ শতাংশ করে বাড়াতে বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংক থেকে বলা হয়েছে কাস্টমস ডিউটি ৭৫ শতাংশ করতে। তখন আমি তিনদিন লাগিয়ে একটা ফিসক্যাল মডেল দাঁড় করিয়ে দেখলাম, বিষয় দুটি সাংঘর্ষিক। কিন্তু সাইফুর রহমানকে আমরা কিছু জানানোর আগেই তিনি বলে দিলেন, এটা করা যাবে না। এমন তীক্ষ্ণ ও অবিশ্বাস্য দিক ছিল তার।’

ফাওজুল কবির বলেন, ‘ভ্যাট পাস হবে এটা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কেউ নিশ্চিত ছিল না। সবাই সেদিন বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু তিনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি দেশের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি তার স্নেহের সংস্পর্শ পেয়েছি। আমি সবসময় বিশ্বাস করি তিনি এ দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্থমন্ত্রী। ভবিষ্যতেও তার মাপের আরেকজন অর্থমন্ত্রী পাব বলে মনে হয় না।’

গুণীজন সংবর্ধনায় সাইফুর রহমান সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অনেক দুর্বৃত্তায়ন হয়েছে। কিন্তু এম সাইফুর রহমান বাংলাদেশের ফিসক্যাল পলিসি, মনিটারি পলিসিসহ বিভিন্ন খাতে যেসব মৌলিক সংস্কার করেছেন, তার ফলে দুর্বৃত্তায়নের মধ্যেও আমরা একেবারে অন্ধকারে নিপতিত হইনি, যা হওয়ার ব্যাপক সুযোগ ও সম্ভাবনা ছিল। সাইফুর রহমানের মৌলিক ভিত্তিগুলোর কারণে অর্থনীতিকে আমরা দুর্বৃত্তায়নের মধ্যেও বেশকিছু দূর টেনে নিয়ে যেতে পেরেছি। তারপরে ধস নেমেছে।’

ধসে যাওয়া অর্থনীতি এখন পুনর্নির্মাণের সময় এসেছে মন্তব্য করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আশ্বস্ত হতে চাই যে আমাদের অর্থনীতি পুনর্নির্মিত হবে, আমাদের সম্পদের সুষম বণ্টন হবে। আমাদের নাগরিকদের মধ্যে ক্রনি ক্যাপিটালিজম তৈরি হবে না। আমাদের ক্রিমিন্যালাইজড অর্থনীতি হবে না।’

অর্থনীতির স্বাভাবিক অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য একজন চ্যাম্পিয়নের দরকার হয় আর সাইফুর রহমানকে তেমন একজন চ্যাম্পিয়ন বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাজার ব্যবস্থাপনা, বেসরকারি খাত, রফতানি খাত, সংরক্ষণ নীতির চ্যাম্পিয়ন তিনি। জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন মুক্তবাজার অর্থনীতির যাত্রা শুরু হয়েছিল সাইফুর রহমানের মাধ্যমে। সাধারণ মানুষের স্বার্থও দেখতেন তিনি। অনেক সময় ব্যবসায়ীরা উনার সিদ্ধান্তে হতাশ হতেন, অভিযোগ করতেন। কিন্তু তিনি দেশের স্বার্থ সবার আগে দেখতেন। বৈদেশিক ঋণের ওপর তিনি খুব বেশি নির্ভরতা চাননি।’

তিনি বলেন, ‘সাইফুর রহমান স্কুলের ভর্তি বাড়ানোর জন্য ফুড ফর এডুকেশন চালু করেছিলেন। বড় ধরনের পরিবর্তনের জন্য পেইনফুল সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতা ছিল তার। বিএনপির রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সংস্কার ভাবনার পেছনে কিন্তু সাইফুর রহমানের অবদান রয়েছে। এসব তিনি জিয়াউর রহমানের চিন্তা থেকে পেয়েছেন। আগামী দিনের বাংলাদেশে আমরা সাইফুর রহমানের চিন্তা থেকে সরে দাঁড়াব না। উনার রেখে যাওয়া ফুটপ্রিন্ট আমরা বহন করব। উনি যে ডি-রেগুলেশন করেছেন, উদারীকরণ করেছিলেন আমরা তা আরো বড়ভাবে করব। আমরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যই এটা করব।’

সাইফুর রহমান পেশাদারত্ব, দেশপ্রেম, সংস্কারে অনন্য ছিলেন বলে উল্লেখ করেন সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। তিনি বলেন, ‘সাইফুর রহমানের কয়েকটি মৌলিক স্তম্ভ ছিল। এর একটা পেশাদারত্ব। সরকারের কাজ এবং দেশ কীভাবে চলছে সে বিষয়ে উনার যথেষ্ট জ্ঞান ছিল। তিনি মন্ত্রণালয়ের কাজ সম্পর্কে ভালো জানতেন। দ্বিতীয়ত, উনার অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতা। তিনি যখন দাতাদের সঙ্গে সভা করতেন, তখন নিজেকে কৃষক পরিচয় দিতেন তিনি। গ্রামের সঙ্গে তার ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। উনার সঙ্গে অনেক জায়গায় যাওয়ার ফলে আমি প্রত্যক্ষভাবে দেখেছি যে যেসব সিদ্ধান্তই তিনি নিতেন, সেগুলোয় দেশপ্রেমহীনতা বা স্বার্থপরতার কোনো প্রমাণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘অনেকেই এখানে সংস্কারের কথা বলেছেন। সংস্কার কেন, কখন এবং কীভাবে করতে হয়, তিনি সেটা ভালো জানতেন। এখন যে রেমিট্যান্সের অবস্থা, সে বীজ বুনন করে গিয়েছিলেন সাইফুর রহমান। তিনি এমনই একজন ছিলেন, যিনি সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেয়ার আগে পদত্যাগপত্র তৈরি করে রাখতেন। পেশাদারত্ব, সততা ও দূরদর্শিতার কারণে আগে থেকেই তিনি অনেক কিছু বুঝতে পারতেন।’

উন্মুক্ত আলোচনায় এম সাইফুর রহমানকে একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘তিনি আমাদের যা কিছু দিয়ে গেছেন সেগুলো বুকে ধারণ করে, লালন করে আমরা এদেশকে অনেক কিছু দিতে পারব। উনার দেয়া সিদ্ধান্তে ৮০ দশকের ৩ মিলিয়নের পোশাক শিল্প আজ ৩৬ হাজার মিলিয়নে পৌঁছেছে। উনার কিছু সিদ্ধান্তের কারণে পোশাক শিল্প আজ এত সমৃদ্ধ। তিনি যদি পথ দেখিয়ে না যেতেন তাহলে পোশাক শিল্প এতদূর এগিয়ে যেতে পারত না। এখন ৫০ লাখের অধিক শ্রমিক এ শিল্পে কাজ করে। তার ৬০ শতাংশ নারী। নারীর ক্ষমতায়ন, নারীকে পরিবার ও সমাজে অবস্থান তৈরির ক্ষেত্রে এ শিল্প বিশেষ অবদান রাখছে। এম সাইফুর রহমান আমাদের যে পথ দেখিয়ে গিয়েছেন সে পথে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।’

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি ও সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এমএ কাশেম বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ৫০-৫৫ বছর মরহুম সাইফুর রহমানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রেখেছি। তিনি শুধু একজন অর্থমন্ত্রীই নন, ছিলেন একজন বিচক্ষণ, নীতিবান ও দূরদর্শী মানুষ। আমাদের অনেক গল্প আছে, বহু সময় একসঙ্গে কাটিয়েছি। সাইফুর রহমান এমন একজন মানুষ ছিলেন যাকে কখনো ভুলতে পারি না। একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ ছিলেন। আমি তার কাছে খুব ঋণী। তিনি ছিলেন একজন সৎ, বিচক্ষণ ও মহান ব্যক্তিত্ব। এমন গুণী মানুষ সমাজে খুব কম পাওয়া যায়।’

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে বিআইডিএসের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. কাজী ইকবাল বলেন, ‘সাইফুর রহমান ছিলেন বিআইডিএসের ভালো একজন বন্ধু। বিআইডিএসের সঙ্গে তার যে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল, তা অন্য মন্ত্রীদের সঙ্গে ছিল না। এর বড় কারণ তিনি গবেষণা পছন্দ করতেন ও গবেষকদের শ্রদ্ধা করতেন। বিআইডিএসের প্রতি তিনি সবসময় সদয় ছিলেন। তিনি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা অর্থমন্ত্রী। তবে তাকে অনেক বড় ক্যানভাসে দেখা উচিত। ১৯০০ সালের পর বিশ্বযুদ্ধ, ’৪৭ ও ’৭১-এর পর আমাদের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল ’৯০-এর সংস্কার। এতে এম সাইফুর রহমানের বড় ভূমিকা ছিল।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল ’৯০-এর সংস্কার। এতে এম সাইফুর রহমানের বড় ভূমিকা ছিল। ইতিহাসের বড় ক্যানভাসে আমরা যদি কয়েকটি ডট মেলাতে চাই, যে ডটগুলোর মাধ্যমে আমরা অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করতে পারব, সে রকম একটা ডটের সঙ্গে সাইফুর রহমান জড়িত ছিলেন। আমি নিশ্চিত যে আজ থেকে ২০-৫০ বছর পর যখন বাংলাদেশের অর্থনীতির একটা নির্মোহ ইতিহাস লেখা হবে, সেখানে অবশ্যই সাইফুর রহমানের একটা বড় ভূমিকা থাকবে।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে গুণীজন সংবর্ধনা আয়োজন নিয়ে কথা বলেন বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে আমাদের গুণীজন সংবর্ধনা আয়োজন শুরু হয়। ‘মরণোত্তর’ গুণীজন সংবর্ধনা এবারই আমরা প্রথম আয়োজন করছি। ৫ আগস্টের পর দেশ পুনর্গঠন, নতুন করে সাজানো, দেশের সংস্কারে অনেক কথা হচ্ছে। যে মানুষটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কারে বড় ভূমিকা রেখেছেন; আমাদের কাছে মনে হয়েছে, সাইফুর রহমানকে স্মরণ করার, তাকে সম্মানিত করার এটাই ভালো সময়।’

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, শিল্প উদ্যোক্তা, চিকিৎসক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার পাঁচ শতাধিক অতিথি অংশগ্রহণ করেন। এম সাইফুর রহমানের দুই ছেলে এম নাসের রহমান ও এম কায়সার রহমানসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার, নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভিন হক, ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরী, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ও এসডিএফ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী, আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খাজা শাহরিয়ার, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিন, ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মু. ফরীদ উদ্দীন আহমদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ড. আবুল কালাম আজাদ, ব্র্যাক ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক মঈনউদ্দীন, জয়তুন বিজনেস সলিউশনসের চেয়ারম্যান মো. আরফান আলী, বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি প্রফেসর মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া, পূবালী ব্যাংকের সাবেক এমডি মো. আবদুল হালিম চৌধুরী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, শাহ্‌জালাল ইসলামী ব্যাংকের এমডি মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ, ঢাকা ব্যাংকের এমডি শেখ মোহাম্মদ মারুফ, আইএফআইসি ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মনসুর মোস্তফা, বেসিক ব্যাংকের এমডি মো. কামরুজ্জামান খান, এবি ব্যাংকের এমডি (ভারপ্রাপ্ত) সৈয়দ মিজানুর রহমান, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি মো. নাজমুস সায়াদাত, আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের এএমডি রাফাত উল্লা খান।

উপস্থিত ছিলেন লংকাবাংলা ফাইন্যান্স পিএলসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ মঈন, এক্সপো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুল আনাম, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ, জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর কবীর, হকস বে অটোমোবাইল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হক, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পরিচালক ও লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) খন্দকার সাফ্ফাত রেজা, ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও নাসিমুল বাতেন, আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএল‌সির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিজওয়ান দাউদ সামস, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. কায়সার হামিদ, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. রিয়াদ মতিন ও সেকেন্ড ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান, প্রাইম ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান, কেপিএমজি বাংলাদেশের সিনিয়র পার্টনার আদিব এইচ খান, ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশিদ মোল্লা।

শিক্ষাবিদদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল, বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুর রব, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) উপ-উপাচার্য ও উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব নবী খান, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম, প্রাইম ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুর রহমান, উত্তরা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা লেখা, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য ড. জহিরুল হক, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ব্র্যাঞ্চের ডেপুটি ভাইস চ্যান্সেলর ড. এ কে এনামুল হক, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী, উত্তরা ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. গৌর গোবিন্দ গোস্বামী, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির আরবান ল্যাবের ফাউন্ডিং পার্টনার স্থপতি ইকবাল হাবিব, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদুল জাহীদ, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এবিএম রেজাউল করিম ফকির, বিসিকের সাবেক পরিচালক আবু তাহের খান, কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক একেএম মাজহারুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক মো. লোকমান হোসেন, এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন ও বাংলাদেশ স্টাডি ফোরামের (বিডিএসএফ) চিফ কো-অর্ডিনেটর মাহমুদুল হাসান।

আরো উপস্থিত ছিলেন আব্দুল মোনেম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএসএম মঈনউদ্দিন মোনেম, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক ও কথাসাহিত্যিক আফসানা বেগম, বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) ড. শোয়েব রিয়াজ আলম, জাতীয় গোয়েন্দা নিরাপত্তার সহকারী পরিচালক মো. মিজান, হকস বে অটোমোবাইলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হক, আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার গ্রুপের এমডি কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, ইউনাইটেড ফাইন্যান্স পিএলসির চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান, ইউনাইটেড ফাইন্যান্স পিএলসির এমডি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

রাজনীতিবিদদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দীন স্বপন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সাবেক পানি উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) মনজুর কাদের, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহাদি আমিন, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু, সাবেক পানি উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দীন খান, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভা প্রধান তসলিমা আখতার, জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, জাতীয় নাগরিক কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন ফয়সাল, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, গণঅধিকার পরিষদের আহ্বয়াক রেজা কিবরিয়া, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের অর্থ সমন্বয়ক দিদারুল ভূঁইয়া, বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য আকবর খান, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম লালা, সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মনির খান, আইনজীবী মোহাম্মদ মাকসুদ উল্লাহ, ব্যারিস্টার ফারাহ খান, ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ, ব্যারিস্টার রাফিউল ইসলাম, কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের সদস্য মাহবুবা হাবিবা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রমুখ।

আরও