রংপুরে পেঁয়াজ সংরক্ষণে আশা জাগাচ্ছে এয়ার ফ্লো মেশিন

রংপুরে পেঁয়াজ সংরক্ষণে কৃষকদের আশা জাগাচ্ছে আধুনিক ‘এয়ার ফ্লো মেশিন’।

এবার ফলন তোলার সময় অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এর ওপর বাজারে ন্যায্যমূল্য না থাকায় চিন্তিত চাষীরা। এমন পরিস্থিতিতে জেলা কৃষি অফিসের সরবরাহ করা এয়ার ফ্লো মেশিনের মাধ্যমে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে লাভের প্রত্যাশা করছেন তারা।

জানা গেছে, রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ পর্যন্ত কৃষকদের মাঝে ১৪০টি এয়ার ফ্লো মেশিন সরবরাহ করেছে। এ মেশিনের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ছয় মাস পর্যন্ত ২৫০-৩০০ মণ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব। বিদ্যুতের সাহায্যে দিন-রাতে অন্তত দুইবার ২-৩ ঘণ্টা এ মেশিন চালু রাখা হয়। এতে নিচ থেকে বিশেষ উপায়ে বাতাস বের হয়ে পেঁয়াজকে সতেজ রাখে।

পীরগঞ্জ উপজেলার চককরিম গ্রামের কৃষক মো. সাইদুর রহমান এবারই প্রথম ৪০ মণ পেঁয়াজ এ মেশিনের মাধ্যমে সংরক্ষণ করেন। অন্যদিকে মিঠাপুকুর উপজেলার নুরপুর এলাকার আবু তালেব নামের এক চাষী প্রায় পাঁচ মাস ধরে ৫০ মণ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেন। তিনি ৩৫ শতক জমিতে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে ৬০ মণ পেঁয়াজ পেয়েছিলেন।

এয়ার ফ্লো মেশিন প্রণোদনা পাওয়া একাধিক কৃষক জানান, আগে ঘরে খোলা জায়গায় মাত্র ১৫-২০ দিন পেঁয়াজ রাখা যেত। এরপর ওজন কমে যেত বা পচে যেত। এবার এয়ার ফ্লো মেশিনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তারা। তবে দীর্ঘদিন এয়ার ফ্লো মেশিনের মাধ্যমে সংরক্ষণ করলে পেঁয়াজের কী পরিমাণ ওজন কমে তা এখনো পরীক্ষা করা হয়নি তাদের।

কৃষকরা আরো জানান, বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০-৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন মৌসুমে বাজারে এককালীন প্রচুর পেঁয়াজ আসায় দাম কমে যায়। গত বছর যেখানে প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এবার তা ৬০০ টাকায় বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া পেঁয়াজ তোলার মৌসুমে টানা বৃষ্টিতে ফলনের ক্ষতি হয়েছে। এগুলোর সংরক্ষণ নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

নাসিরাবাদ এলাকার কৃষক মো. আজহার আলী জানান, গত বছর শতক প্রতি ফলন পেয়েছিলেন দুই মণ। এবার পেয়েছেন সোয়া এক মণ। দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় লক্ষাধিক টাকা। কিন্তু বাজারে দাম না পাওয়ায় অধিকাংশ পেঁয়াজ সংরক্ষণের শেষ ভরসা এয়ার ফ্লো মেশিন।

রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেলায় মোট পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৭১ হাজার টন। অথচ জেলায় বার্ষিক চাহিদা মাত্র ৫৩ হাজার ২৫০ টন। ফলে প্রতি বছরই উৎপাদিত বাড়তি পেঁয়াজ সংরক্ষণের অভাব একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘‌এ জেলায় পেঁয়াজের আবাদ বেড়ে যাচ্ছে। কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত ফলনের ভালো দাম পায় এজন্য পেঁয়াজ সংরক্ষণে প্রণোদনায় এয়ার ফ্লো মেশিন স্থাপন করে দেয়া হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো পেঁয়াজের বাজার যখন নিম্নমুখী থাকবে, তখন দ্রুত পচনশীল এ পণ্য কয়েক মাস সংরক্ষণের মাধ্যমে কৃষকরা যাতে সুবিধামতো বিক্রি করতে পারেন। এতে কৃষকরা লাভবান হবেন।’

আরও