দেশের ১৬টি ব্যাংক ও সাত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ নিয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপ। এর মধ্যে ৩১ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এরই মধ্যে শ্রেণীকৃত (খেলাপি) হয়ে গেছে। মোট ৭৮টি কোম্পানির নামে এ পরিমাণ ঋণ নিয়েছে সালমান এফ রহমানের গ্রুপটি। চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বেক্সিমকোর ঋণের এ তথ্য উচ্চ আদালতকে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে গতকাল এ তথ্য তুলে ধরা হয়। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রুলের শুনানিতে অংশ নিয়ে তা উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী মুনীরুজ্জামান।
আদালতে উপস্থাপন করা নথিতে বলা হয়, বেক্সিমকো গ্রুপের কোম্পানি সংখ্যা ১৮৮। এর মধ্যে ৭৮টি কোম্পানির নামে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কিছু কোম্পানি ‘শেল কোম্পানি’ হিসেবে পরিচিত। এসব কোম্পানি তৈরিই করা হয়েছে জনগণের অর্থ লুণ্ঠনের জন্য। গত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বেক্সিমকো গ্রুপের ঋণের স্থিতি ছিল ৫০ হাজার ৯৮ কোটি টাকা। গ্রুপটি রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে রফতানি করা ৫ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা মূল্যের পণ্যের অর্থ দেশে আনেনি।
নথির তথ্য অনুযায়ী, বেক্সিমকো গ্রুপের কাছে সবচেয়ে বেশি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংকের। ওই ব্যাংকটি থেকে ২৯টি কোম্পানির নামে ২৩ হাজার ৯১২ কোটি টাকা বের করে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা গত ৩০ সেপ্টেম্বর খেলাপি হয়ে গেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা ঋণ গেছে আইএফআইসি ব্যাংক থেকে। যদিও সালমান এফ রহমান নিজেই ওই ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ও বেনামি কোম্পানি তৈরি করে এ ঋণ নিয়েছেন তিনি।
বেক্সিমকো গ্রুপের কাছে বড় অংকের ঋণ আছে, এমন অন্য ব্যাংকগুলো হলো ন্যাশনাল ব্যাংকের ৩ হাজার ১৮২ কোটি, এবি ব্যাংকের ১ হাজার ৮৩৯ কোটি, সোনালী ব্যাংকের ১ হাজার ৬৭৭ কোটি, এক্সিম ব্যাংকের ১ হাজার ৪৬৮ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকের ১ হাজার ৯ কোটি, রূপালী ব্যাংকের ৯৬৫ কোটি, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ১৭০ কোটি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ১৪৬ কোটি, ঢাকা ব্যাংকের ১৩৭ কোটি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৮৫ কোটি ও পদ্মা ব্যাংকের ২৪ কোটি টাকা। গ্রুপটির কাছে ঋণ রয়েছে আরো কয়েকটি ব্যাংক ও সাতটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের।
গতকাল আদালতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুনীরুজ্জামান। বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও আইনজীবী আনিসুল হাসান শুনানিতে ছিলেন। রিটের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাসুদ আর সোবহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদ উদ্দিন।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আইনজীবী মুনীরুজ্জামান বলেন, ‘বেক্সিমকো গ্রুপকে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে বেশির ভাগ ব্যাংক আইন ও প্রচলিত ব্যাংকিং রীতিনীতি ভঙ্গ করেছে। আদালতে আমরা ব্যাংকগুলো থেকে নেয়া ঋণের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছি। শুনানি নিয়ে আদালত আগামী ২২ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।’