আবাহনী ও ধানমন্ডি মাঠ দেখভাল করবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ধানমন্ডির ৮ নম্বর সড়কের মাঠটির ব্যবস্থাপনাও এত দিন ভিন্ন ছিল। মাঠটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে থাকলেও দীর্ঘদিন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব সেটি ব্যবহার ও কার্যত নিয়ন্ত্রণ করেছে।

ধানমন্ডির আবাহনী মাঠ ও ধানমন্ডি মাঠের দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। মাঠ দুটি সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খান সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

আবাহনী মাঠ নামে পরিচিত ধানমন্ডি ক্রিকেট মাঠটি এতদিন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা নিয়ে পরিচালনা করত আবাহনী লিমিটেড। ইজারার অর্থ কয়েক বছর ধরে পরিশোধ না করা এবং ইজারার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগের পর মাঠটির নিয়ন্ত্রণ সরকারের কাছে ফিরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ইজারা বাতিলের পর মাঠটি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ইজারার শর্ত অনুযায়ী, জায়গাটি খেলাধুলার কাজে ব্যবহার করার কথা ছিল। বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণেও বিধিনিষেধ ছিল।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ধানমন্ডির ৮ নম্বর সড়কের মাঠটির ব্যবস্থাপনাও এত দিন ভিন্ন ছিল। মাঠটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে থাকলেও দীর্ঘদিন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব সেটি ব্যবহার ও কার্যত নিয়ন্ত্রণ করেছে। পরে ক্লাবটির নাম পরিবর্তন করে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব করা হয়। মাঠটিতে সাধারণ মানুষের প্রবেশে বাধা দেয়ার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে উঠেছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আগামী পাঁচ বছর মাঠ দুটি সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করবে। পরে উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে এ চুক্তির মেয়াদ নবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। অনুষ্ঠানে জাকারিয়া তাহের বলেন, ‘ঢাকা ও বড় শহরগুলোতে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাব রয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা এসব মাঠকে কেবল একটি নির্দিষ্ট খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দক্ষ ব্যবস্থাপনায় হস্তান্তর করা হলে মাঠগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রতিটি পাড়া ও মহল্লায় খেলার সুযোগ তৈরি এবং ক্রীড়া চর্চাকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া। দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন খেলার মাঠগুলো যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তরের লক্ষ্যে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে মো. আমিনুল হক বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরের ক্লাবগুলোর রাজনৈতিকীকরণ দূর করে নিরপেক্ষ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো তৈরি করা এবং মাঠগুলোকে সাধারণ মানুষ ও তরুণদের জন্য উন্মুক্ত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।’

আরও