ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরাইল থানার ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাগবিতণ্ডা

রাতে বাগবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দাঙ্গা- হাঙ্গামা ও সংসদ সদস্য হিসেবে নিরাপত্তা না দেয়া ও ফোন না ধরার অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর কাদের ভুঁইয়ার সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার রাত ৮ টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত সরাইল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। রাতে বাগবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে থানায় যান। পরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসির) রুমে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি সরাইলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে জানতে চান। সেই সঙ্গে সংসদ সদস্য হিসেবে তাকে নিরাপত্তা না দেয়া এবং ফোন না ধরার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ সময় থানায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে আসায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর কাজের ভূঁইয়াও অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিতর্কে জড়ান।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের জানান, আইন অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্য নিরাপত্তা চাইলে তা দেয়া হয়। সে আলোকে বিজয়নগর ও আশুগঞ্জে সেসব থানার পুলিশ আমাকে নিরাপত্তা দিয়েছেন। অথচ সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফোন ধরেন না। বরং তিনি বলেন নির্বাচিত এমপির নিরাপত্তা মানুষ দেবে। তাই আমার সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ এসেছে। তারা আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে।

রুমিন ফারহানা আরো বলেন, সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে ইটের ভাটা থেকে টাকা নেয়া, মাটিকাটা সহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে সেসব বিষয় জানতেই আমি থানায় এসেছি।

এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, রুমিন ফারহানা তার বিপুল সংখ্যক লোকজন নিয়ে এসে হইচই করে থানায় মব সৃষ্টি করেছেন। এ সময় তিনি আইনশৃঙ্খলার অবনতির কথা উল্লেখ করে নানা অজুহাত তুলে ধরেন। অথচ দাঙ্গা হাঙ্গামা আগের চেয়ে অনেকটা কমেছে। তার সঙ্গে থাকা লোকজন যেসব অভিযোগ করেছে তা মিথ্যা।

রুমিন ফারহানার নিরাপত্তার বিষয়ে ওসি বলেন, আমাদের যে ফোর্স রয়েছে তা দিয়ে থানা চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দুর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তার মধ্যে সংসদ সদস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে উনার সঙ্গে পুলিশের টিম রাখা সেসময় কঠিন ছিল। তিনি গানম্যান চাইলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে চাইতে হবে।

আরও