প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র এবং রফতানি প্রবেশদ্বার হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
সোমবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইনস্টিটিউট (এসডিপিআই) আয়োজিত ‘২৯তম টেকসই উন্নয়ন সম্মেলন’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে গেস্ট অব অনার হিসেবে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ড. তিতুমীর বলেন, ‘বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সহযোগিতা এ অঞ্চলের জন্য একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।’ এ সময় দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাকে সংযুক্ত করে সমন্বিত উৎপাদন নেটওয়ার্ক স্থাপনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশগুলোর উচিত এমন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা, যা অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা তৈরি করে, প্রযুক্তি হস্তান্তর করে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে শিক্ষা খাতে ব্যয় বর্তমানের প্রায় ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী প্রডাকশন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী উৎপাদন কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উৎপাদনের স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকারের এ উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় জনবান্ধব টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলায় সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদানসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।’
এর মাধ্যমে যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট ও বিগত সরকারের দুঃশাসনের ফলে সৃষ্ট প্রলম্বিত অর্থনৈতিক সংকট ও দারিদ্র্য থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পাকিস্তান সরকারের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রফেসর আহসান ইকবাল। চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনে প্রায় ৫০টি প্যানেল ও প্লেনারি অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০০ জনেরও বেশি উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখবেন, যাদের মধ্যে ১০০ জনেরও বেশি নারী রয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন এবং বিশ্বের অন্যান্য প্রান্ত থেকে প্রতিনিধিরা এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।
সম্মেলনে অংশগ্রহণের পর উপদেষ্টা ইসলামাবাদে নবনির্মিত বাংলাদেশ চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স চত্বরে জাম গাছের একটি চারা রোপণ করেন।
এছাড়া উপদেষ্টা পাকিস্তানের অর্থ ও রাজস্ব বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব, পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী প্রফেসর আহসান ইকবাল, জ্বালানি বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক এবং প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও উৎপাদন বিষয়ক উপদেষ্টা হারুন আখতার খানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।