যমুনা সেতুর চলমান সংস্কারকাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। গতকাল চীনা তিন প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লি. (সিসিসিসি), চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি) ও দ্য সেকেন্ড হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এসএইচইসি)-এর বাংলাদেশ সফররত ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ নির্দেশনা দেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে যমুনা সেতুর পট বিয়ারিং ও সিসমিক ডিভাইস প্রতিস্থাপন এবং সেতুর ডেক পুনর্বিন্যাস ও সড়ক প্রশস্তকরণকাজের অগ্রগতি, গুণগত মান এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় জানানো হয়, তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যমুনা সেতুর পট বিয়ারিং ও সিসমিক ডিভাইস প্রতিস্থাপনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সেতুর নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা বজায় রাখার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ এ কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সেতু বিভাগের সচিব। তিনি নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর পরামর্শ ও কারিগরি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করে আগামী নভেম্বরের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করার জন্য চীনা প্রতিনিধিদলকে অনুরোধ জানান।
এ ছাড়া সিসিসিসি-সিআরবিসি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যমুনা সেতুর অব্যবহৃত রেলট্র্যাক অপসারণ, ডেক পুনর্বিন্যাস এবং সড়ক প্রশস্তকরণের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এ কাজ সম্পন্ন হলে সেতুর বর্তমান সীমিত প্রস্থের চার লেনের সড়ক মানসম্মত চার লেনে উন্নীত হবে। ফলে সেতুর সড়ক ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং যানবাহন চলাচল আরো নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। বিশেষ করে ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে উত্তরবঙ্গগামী ও উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের যাতায়াত আরও নির্বিঘ্ন করতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেতু বিভাগের সচিব পরবর্তী ঈদুল ফিতরের আগেই সেতুর ডেক সংস্কার ও সড়ক প্রশস্তকরণকাজ সম্পন্ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এ লক্ষ্যে নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইইউটি-দেবকম-জেভির পরামর্শ ও কারিগরি নির্দেশনা অনুসরণ, নির্মাণকাজের গুণগত মান বজায় রাখা এবং কাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার জন্য তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অনুরোধ জানান।
চীনা প্রতিনিধিদল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চলমান কাজগুলো সম্পন্ন করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তারা জানান, কাজের নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
সভায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) আলতাফ হোসেন শেখ, প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (অপারেশন) মো. আবুল কালাম আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।— সংবাদ বিজ্ঞপ্তি