বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী উন্মুক্ত স্থানে (ওপেন স্পেস) এবার ভারী শিল্প স্থাপনের অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে কৌশলগত বন্যাপ্রবাহ এলাকা সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়ে আবাসন প্রকল্প নির্মাণের সুযোগও দেয়া হয়েছে। অংশীজনদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) এমন পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত রাজধানীর পরিবেশ, জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ও বাসযোগ্যতার ওপর নতুন চাপ তৈরি করবে। বিশেষ করে বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকায় ভারী শিল্প স্থাপনের অনুমোদন পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। কেননা বিদ্যমান শিল্প ও কলকারখানার অপরিশোধিত তরল বর্জ্য এবং রাসায়নিক পদার্থ সরাসরি নদীতে ফেলার কারণে এমনিতেই মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে এর প্রতিবেশ।
ঘনবসতি, অপর্যাপ্ত নাগরিক সেবা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের চাপে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে ঢাকা। এ পরিস্থিতিতে ২০২২-২৩ সালে প্রণীত ড্যাপে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোয় জনঘনত্ব কমিয়ে নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ, জলাধার ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ এবং বন্যাপ্রবাহের স্বাভাবিক পথ অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। তবে আবাসন ব্যবসায়ী ও জমির মালিকদের আপত্তির মুখে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভবনের উচ্চতা ও জনঘনত্বসংক্রান্ত বিধানে পরিবর্তন আনা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও একই পরিকল্পনায় সংশোধনী আসে। এর বাইরে বন্যাপ্রবাহ এলাকাসহ কয়েকটি বিষয়ের সংজ্ঞাও পরিবর্তন করা হয়েছিল। নগর পরিকল্পনাবিদরা অবশ্য বলছেন, সর্বশেষ সংশোধনীগুলো আগের সব পরিবর্তনকে ছাড়িয়ে গেছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-২-এর উপসচিব মোছা. লুৎফর নাহার নাজীমের সই করা ১৪ অক্টোবরের এক প্রজ্ঞাপনে ড্যাপের তিনটি সংশোধনী আনার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কারিগরি প্রক্রিয়া ও অংশীজনদের মতামত গ্রহণ ছাড়াই এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে নগর পরিকল্পনাবিদদের অভিযোগ।
ড্যাপে রাজধানীর আইলবহর মৌজার মহানগর জরিপের ১০৪৭, ১০৪৮ ও ১০৫০ নম্বর দাগের এলাকাগুলো আগে উন্মুক্ত স্থান হিসেবে চিহ্নিত ছিল। নতুন সংশোধনীতে সেগুলোকে ভারী শিল্প এলাকা হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অঞ্চলটি বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী হওয়ায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ছাড়পত্র নেয়ার শর্ত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অনাপত্তি বা মতামত গ্রহণের কথা বলা হয়েছে সংশোধনীতে। পাশাপাশি সিটি জরিপে হালট শ্রেণী সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত তা সংরক্ষণ এবং নির্মিত ভবনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধি ও কোড অনুসরণ করে রাজউকের অনুমোদন নেয়ার কথা বলা হয়েছে।
ঝিলমিল ও পূর্বাচল প্রকল্প এলাকায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ কাঠা বা তার বেশি আয়তনের প্লটে নির্মাণ অনুমোদন নিলে শূন্য দশমিক পাঁচ ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) প্রণোদনার বিষয়টি আনা হয়েছে দ্বিতীয় সংশোধনীতে। আর তৃতীয় সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ড্যাপে চিহ্নিত বিরোধপূর্ণ বন্যাপ্রবাহ এলাকায় আবাসন প্রকল্প নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।
ড্যাপ-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নদীর পাড়েই সাধারণত ওপেন স্পেস রাখা হয়। এতে নদীর সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ আরো বাড়ে। ঢাকার বিশদ অঞ্চল নিয়ে পরিকল্পনাটি প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত নগর পরিকল্পনাবিদ আবু মুছা মো. আবদুল্লাহ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ড্যাপে কিছু এলাকাকে একই সঙ্গে আবাসিক ভূমি ব্যবহার এবং জলস্রোত ওভারলে জোন বা বন্যাপ্রবাহ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ধরনের বিরোধপূর্ণ এলাকায় বন্যাপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন সংশোধনীতে নেয়া হয়েছে তার উল্টো সিদ্ধান্ত।’
তিনি বলেন, ‘বন্যাপ্রবাহ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত কোনো জায়গাকে শুধু আবাসিক ভূমি ব্যবহার হিসেবে দেখিয়ে নির্মাণের অনুমোদন দেয়ার সুযোগ তৈরি হলে বন্যার পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। এতে জলাবদ্ধতা বাড়বে এবং আশপাশের এলাকায় তৈরি হবে বন্যার ঝুঁকি। ঢাকার বিদ্যমান জলাবদ্ধতা ও হিট আইল্যান্ডের মতো সমস্যাও আরো তীব্র হতে পারে। তাই এ ধরনের বিধিনিষেধ পরিবর্তনের আগে পর্যাপ্ত হাইড্রোলজিক্যাল ও হাইড্রোলিক সমীক্ষা, বন্যার ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন। তা না হলে এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি বহন করতে হবে নগরবাসীকে।’
নগর পরিকল্পনাবিদদের আপত্তির আরেকটি বড় কারণ বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী উন্মুক্ত স্থানকে ভারী শিল্প এলাকা হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্ধারণ করা। তাদের মতে, জুরাইন-শ্যামপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। সেখানে উন্মুক্ত স্থানের পরিবর্তে ভারী শিল্প স্থাপনের সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিবেশগত ও জনস্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়বে।
ড্যাপে ভারী শিল্পের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, এ ধরনের শিল্প থেকে শব্দদূষণ, কম্পন ও প্রচুর ধোঁয়া সৃষ্টি হতে পারে, যা আশপাশের এলাকায় বসবাসের অসুবিধা তৈরি করে। লোকালয়ের কাছে ভারী শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশদূষণ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি এড়ানোর বিষয়েও পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর অধীনে বুড়িগঙ্গা নদীকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা বা ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ ধরনের এলাকায় পরিবেশদূষণকারী শিল্প বা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, জলজ প্রাণীর ক্ষতিকর কার্যক্রম, নদী-জলাশয়ে পয়োবর্জ্য ও তরল বর্জ্য নির্গমন এবং কঠিন বর্জ্য অপসারণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ। ফলে বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী এলাকায় ভারী শিল্প স্থাপনের অনুমোদন পরিবেশগত বিধিবিধানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সে প্রশ্নও তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকার সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোর একটি জুরাইন-শ্যামপুর। সেখানে মাঠ, পার্ক ও ফুটপাতের ঘাটতির মধ্যে উন্মুক্ত স্থানে ভারী শিল্পের অনুমোদনের সিদ্ধান্তকে স্থানীয়দের প্রতি বৈষম্য হিসেবে দেখছেন বাসিন্দারা। তাদের মতে, যেখানে ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে উন্মুক্ত স্থান কমিয়ে শিল্প স্থাপনের সুযোগ তৈরি করা স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পরিপন্থী।
জুরাইনের বাসিন্দা ফারজানা তাসনিম বর্ষা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঢাকার সবচেয়ে অবহেলিত এলাকাগুলোর একটি জুরাইন-শ্যামপুর। এখানে কোনো মাঠ নেই, পার্ক নেই, এমনকি রাস্তায় হাঁটার জন্য ফুটপাতও নেই। সারা বছরই জলাবদ্ধতা ও বায়ুদূষণে ভোগে এ এলাকার মানুষ, ডেঙ্গুতেও আক্রান্ত হয়। এখন ওপেন স্পেসে ভারী শিল্পের অনুমোদন দেয়ার মাধ্যমে প্রমাণ হলো এ অঞ্চলের মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকারকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
নগর পরিকল্পনাবিদদেরও আশঙ্কা, উন্মুক্ত স্থান সংকুচিত, বন্যাপ্রবাহ এলাকার সুরক্ষা দুর্বল করা এবং নদী-তীরবর্তী এলাকায় ভারী শিল্প স্থাপনের সুযোগ তৈরি—এ তিনটি সিদ্ধান্ত একসঙ্গে ঢাকার পরিবেশগত সংকটকে আরো জটিল করে তুলতে পারে। তাদের মতে, ড্যাপ সংশোধনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, কারিগরি মূল্যায়ন ও অংশীজনদের মতামত নিশ্চিত না করা হলে রাজধানীর দীর্ঘমেয়াদি বাসযোগ্যতা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ড্যাপ সংশোধনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। তার মতে, বিভিন্ন সরকারের আমলে ধারাবাহিকভাবে ড্যাপ সংশোধন করা হলেও প্রতিবারই জনস্বার্থ উপেক্ষা করে ব্যবসায়িক স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।
বণিক বার্তাকে বিআইপির সভাপতি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার দেড় বছরে দুইবার, অন্তর্বর্তী সরকার একবার আর বর্তমান সরকার বছর ঘোরার আগেই কোনো ধরনের নিয়মনীতি না মেনে ড্যাপ পরিবর্তন করে ফেলল। প্রতিটি পরিবর্তনেই জনস্বার্থকে উপেক্ষা করে ব্যবসায়ী স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। আগে অন্তত অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এবার সংশ্লিষ্ট কেউই জানে না যে ড্যাপ পরিবর্তন হয়েছে!’
তিনি আরো বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষার ঘোষণা দিয়ে সরকার ক্ষমতায় এসে উন্মুক্ত স্থানে ভারী শিল্প এবং বন্যাপ্রবাহ এলাকায় আবাসিক প্রকল্পের অনুমোদন দেবে, এমনটা আমাদের প্রত্যাশা ছিল না। এভাবে চলতে থাকলে পরিকল্পনার নামে প্রহসন হবে, অপচয় হবে জনগণের অর্থের।’
উন্মুক্ত স্থানকে কেবল অব্যবহৃত জমি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই বলে জানান নগর পরিকল্পনাবিদরা। তাদের মতে, জনঘনত্বপূর্ণ শহরে এসব স্থান পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বৃষ্টির পানি ধারণ এবং নাগরিকদের বিনোদন ও অবসর যাপনের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। বিশেষত জুরাইন-শ্যামপুরের মতো এলাকায় উন্মুক্ত স্থান কমে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বিকল্প খোলা জায়গা তৈরি করা আরো কঠিন হয়ে পড়বে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘একদিকে ঢাকা জলাবদ্ধতায় ডুবছে, অন্যদিকে বন্যাপ্রবাহ এলাকায় আবাসন প্রকল্প অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আবার বুড়িগঙ্গার তীরে ভারী শিল্প স্থাপনেরও সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। সংশোধিত ড্যাপে যদিও বিআইডব্লিউটিএর ছাড়পত্রের শর্ত রাখা হয়েছে। তবে এগুলোর মাধ্যমে কীভাবে শুভংকরের ফাঁকি দেয়া হয় সে অভিজ্ঞতা তো আমাদের দীর্ঘদিনের। জুরাইন-শ্যামপুরের মানুষ যেখানে দূষণের কারণে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছে না, সেখানে তাদের ভারী শিল্পের দূষণের ঝুঁকিতে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এসব সিদ্ধান্ত জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলা এবং জনদুর্ভোগ বাড়ানো ছাড়া আর কিছুই নয়।’
নগর উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বাসযোগ্যতা সংকট মোকাবেলায় ড্যাপের মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কার্যকর রাখা জরুরি। তবে সে পরিকল্পনায় বারবার পরিবর্তন আনা হলে এবং পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনস্বার্থ, পরিবেশগত প্রভাব ও কারিগরি মূল্যায়ন যথাযথভাবে বিবেচিত না হলে এর মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। বুড়িগঙ্গার তীরে ভারী শিল্পের অনুমোদন ও বন্যাপ্রবাহ এলাকায় আবাসনের বাধা তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত তাই কেবল ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন নয়; এটি রাজধানীর পরিবেশ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ড্যাপের সর্বশেষ সংশোধনী সম্পর্কে অবশ্য কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম। তার ভাষ্য, রাজউকের মতামত ছাড়া মন্ত্রণালয়ের সরাসরি ড্যাপের বিধি পরিবর্তন করার কথা নয়। এ ধরনের সংশোধনের জন্য রাজউকের কারিগরি কমিটির সুপারিশসহ নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রয়োজন হয়।
এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, ‘ড্যাপের কোনো বিধি সংযোজন-বিয়োজনের জন্য রাজউকের একটি কারিগরি কমিটি আছে। সে কমিটি প্রস্তাবিত সংশোধনী সুপারিশ করে। আমরা সে সুপারিশ কর্তৃপক্ষের সভায় উত্থাপন করি। এরপর বোর্ডে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রয়োজনে অংশীজনদের মতামত নেয়া হয়। এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কীভাবে মন্ত্রণালয় ড্যাপের বিধি পরিবর্তন করল, তা আমার জানা নেই।’