বুধবার রাতে হঠাৎ বগুড়ার ৩০টি গ্রামের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে গেছে। এতে এসব গ্রামের তিন শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। সে সঙ্গে উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। এছাড়া ঝড়ো বাতাসে আম, লিচু, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। রাতের কারণে ক্ষয়ক্ষতির তেমন খবর পাওয়া না গেলেও গতকাল সকাল থেকেই তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে তীব্র তাপপ্রবাহের পর বুধবার বিকালে হঠাৎ বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় আকাশ মেঘে ঢেকে যায়। স্থানীয়রা বৃষ্টির অপেক্ষা করতে থাকেন। রাত ৮টার সময় শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী, মির্জাপুর ও খানপুর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে হঠাৎ ঝড় বয়ে যায়। প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ চলে যায় এবং সবকিছু অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। পৌনে ১ ঘণ্টার এ ঝড়ে শাহবন্দেগী ইউনিয়নের সাধুবাড়ী, মামুরশাহী, উচরং, ঘোলাগাড়ী, চকমুকন্দ, কানাইকান্দর, আন্দিকুমড়া, রহমতপুর, ফুলতলা, ধর্মকাম, শেরুয়াসহ অন্তত ২০টি গ্রাম এবং মির্জাপুর ও খানপুর ইউনিয়নের আরো ১০টি গ্রামে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এসব গ্রামের আধাপাকা ও টিনের তিন শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে উড়ে যাওয়া টিনের চালার নিচে চাপা পড়ে ধর্মকাম এলাকায় আরজু মিয়া (২৫) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।
চকমুকন্দ গ্রামের মতিউর রহমান বলেন, ‘ঝড়ে আমার বসতবাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে। গাছপালা ভেঙে পড়ে লক্ষাধিক টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।’ ধর্মকাম গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আকস্মিকভাবে ঝড় শুরু হয়। এতে আমার ওয়েল্ডিং কারখানার চারপাশের ইটের প্রাচীর ভেঙে পড়ছে। টিনের চালাও উড়ে গেছে।’
শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, ‘মোটামুটি বোরো ফসল সব ঘরে উঠে যাওয়ায় তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু এলাকার ওপর দিয়ে এ ঝড় বয়ে যায়। এতে বসতবাড়ির বেশি ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া আম, লিচু ও ভুট্টার সামান্য কিছু ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানা জানান, বুধবার রাতের ঝড়ে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে বেশকিছু ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছ উপড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের সরজমিন পরিদর্শনপূর্বক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে তার দপ্তরে জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।