রাজধানীর বাজারে বেড়েছে শীতকালীন সবজির সরবরাহ

স্বস্তি ফিরছে ডিম-মুরগিতেও

গতকাল বিকালে কারওয়ান বাজারে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৪০ টাকা এবং জোড়া ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। লাউয়ের দাম ছিল প্রতি পিস ৫০-৬০ টাকা। শিম ৫০-৬০, পটোল ২০-৩০, বরবটি ৪০-৫০ এবং গোল সবুজ বেগুন ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বেশ কিছুদিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর রাজধানীর বাজারে কমেছে বেশির ভাগ সবজির দাম। অধিকাংশ সবজি কেজিপ্রতি ৫০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৩০ টাকা কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। এদিকে প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস ধরে ভোক্তাদের অস্বস্তিতে রাখা ডিমের দামও কিছুটা কমেছে। কমেছে মুরগির দামও। তবে মাছের বাজারে দামের ক্ষেত্রে দেখা গেছে মিশ্র চিত্র।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বারিধারা নতুন বাজার ও ভাটারা নতুন বাজার ঘুরে সবজির দাম কমার চিত্র পাওয়া গেছে। তবে কারওয়ান বাজারের তুলনায় অন্য বাজারগুলোয় দামে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য দেখা গেছে।

গতকাল বিকালে কারওয়ান বাজারে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৪০ টাকা এবং জোড়া ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। লাউয়ের দাম ছিল প্রতি পিস ৫০-৬০ টাকা। শিম ৫০-৬০, পটোল ২০-৩০, বরবটি ৪০-৫০ এবং গোল সবুজ বেগুন ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। লম্বা বেগুনের দাম ছিল ৪০-৫০ টাকা। এছাড়া মুলা ৫০, ঢেঁড়স ৪০, কাঁচা পেঁপে এক কেজি ২০ ও দুই কেজি ৩০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ও করলা প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

প্রতি কেজি কচুর লতির দাম ছিল ৫০ টাকা। টমেটো বিক্রি হয়েছে ৭০-৯০ টাকায়। লালশাক, মুলাশাক ও কলমিশাকের প্রতি আঁটির দাম ছিল ১০ টাকা। গতকাল বিকালে কাঁচামরিচের সর্বোচ্চ দাম ছিল ৬০ টাকা। সাধারণ ও তুলনামূলক নিম্নমানের কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৩০-৪০ টাকায়।

আলুর দামে অবশ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকায়। মানভেদে দেশী পেঁয়াজের দাম ৪০-৫৫ টাকা।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. শাহজাহান বলেন, ‘‌বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে। যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও বগুড়া অঞ্চল থেকে বিভিন্ন ধরনের সবজি প্রচুর আসছে। দুই-একটি বাদে বেশির ভাগ সবজি ৪০-৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।’

প্রায় আড়াই মাস ধরে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা নেমে এসেছে ১৪০ টাকায়। গতকাল কারওয়ান বাজারে ডজন বিক্রি হয়েছে ১৩০ টাকায়। আর হালি বিক্রি হয়েছে ৪৫ টাকায়। একইভাবে গত সপ্তাহে ১৮০-১৯০ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগির দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১৭০-১৮০ টাকায়। সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩০০-৩২০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের মায়ের দোয়া চিকেন ব্রয়লার হাউজের দোকানি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌মাসখানেক থেকেই ধাপে ধাপে মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। সোনালি মুরগি এ বাজারে ৩০০-৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা। অন্যান্য বাজারেও কমেছে।’

তবে মাছের দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। দুই-একটি দাম স্থিতিশীল থাকলেও কিছু মাছের দাম কমার তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল এক থেকে দেড় কেজি ওজনের রুই মাছ বিক্রি হয় ৩০০-৩৫০ টাকায়। কেজি ২০-৩০ টাকা কমে পাবদা মাছ ৩২০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়। ছোট কাঁচকি মাছ ৩৮০-৪০০ টাকা, টেংরা ৩০০-৩৫০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০-২৮০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে তেলাপিয়ার দাম কিছুটা কমেছে। আকারভেদে ২০০-২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যেটি গত সপ্তাহে ছিল ২২০-২৪০ টাকা। চাষের পাঙাশ বিক্রি হয় ২০০-২৩০ টাকা।

আরও