যশোরের শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সোনামুখী বিলের নিকটবর্তী 'এ এফ মৎস্য খামারে' মাছের মৃত্যুর ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব তথ্যের অমিল পেয়েছে তদন্ত কমিটি। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মাছের মৃত্যু হয়েছে বলে খামার মালিক পক্ষ যে দাবি করেছিল, জেলা প্রশাসনের তদন্তে তার কোনো তথ্যগত সমর্থন পাওয়া যায়নি।
আজ বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খামার মালিকপক্ষ বিপুল অংকের ক্ষতির কথা দাবি করলেও জরুরি সময়ে পর্যাপ্ত এয়ারেশন সচল রাখার মতো বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে তাদের অনাগ্রহ ও উদাসীনতা দেখা গেছে। সার্বিক তথ্যাদিতে এটি স্পষ্ট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট নয় বরং অতিরিক্ত মাছের ঘনত্বের বিপরীতে অপর্যাপ্ত কারিগরি সক্ষমতা ও খামারের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনাই এ বিপর্যয়ের প্রধান কারণ।
তদন্তে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট রাত ১টা ৪২ মিনিট থেকে ২টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত মাত্র ৪৪ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এর আগে ও পরে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। অথচ খামারে লোডশেডিংয়ের আগেই মাছ মারা যেতে থাকে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মাছের মৃত্যুর পেছনে মূল কারণ হলো অত্যধিক মাছের ঘনত্ব এবং অতিরিক্ত উচ্চ আমিষ সমৃদ্ধ খাদ্যের প্রয়োগ, জৈব ও নাইট্রোজেনজাত বর্জ্যের চাপ, ফাইটোপ্ল্যাংকটনের অস্বাভাবিক আধিক্য, পানির পিএইচ, অ্যামোনিয়া ও দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রায় তীব্র অসামঞ্জস্য এবং চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত এয়ারেশন ব্যবস্থা।
এছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অনুপস্থিতিসহ সামগ্রিক কারিগরি ও ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর-সোনামুখো বিলে এ এফ মৎস্য খামারে মাছের মড়ক শুরু হয়। পরদিন শনিবার সকালে ঘেরের পানিতে বিপুলসংখ্যক মৃত মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়।
ঘেরমালিকদের দাবি, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘেরে প্যাডেল হুইল এ্যারেটর মেশিন বা অক্সিজেন সরবরাহের যন্ত্র চালানো সম্ভব হয়নি। এর সঙ্গে বৈরি আবহাওয়া থাকায় পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপুলসংখ্যক মাছ মারা যায়।
আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন যৌথভাবে এ এফ মৎস্য খামারটি গড়ে তুলেছিলেন। তারা গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, এতে প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এরপর গতকাল মঙ্গলবার ঘটনার সঠিক তথ্য অনুসন্ধানে যশোর জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তদন্তে বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড যাচাই, ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়ের পানির গুণাগুণ পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেয়া হয়।