কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৪) ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে (৩৮) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত স্কুলছাত্রীর ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পংকজ বড়ুয়া। তিনি জানান, ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সুমনের অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। বাসায় পৌঁছে দেয়ার কথা বলে সুমন অটোরিকশাটি নির্ধারিত পথ থেকে সরিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক দিয়ে বিজরা বাজার হয়ে লালমাইয়ের একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে অটোরিকশা বন্ধ করে দিলে জায়গাটি অপরিচিত বুঝতে পেরে তাজমিন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সে গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে সুমন তাকে বাধা দেন। এ সময় তাজমিন চিৎকার করলে সুমন তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাজমিন দুর্বল হয়ে পড়লে তাকে ধানখেতে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন সুমন।
পরে ধানখেতের মাটিতে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন সুমন।
পুলিশ আরো জানায়, হত্যার পর তাজমিনের আইফোনটি নিয়ে হাতব্যাগটি ধানখেতে ফেলে দেন সুমন।
গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানখেতের আইলের পাশ থেকে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ আসা কলের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে নিহতের বাবা মরদেহ শনাক্ত করেন। তার নাম জান্নাতুল তাজমিন। এ ঘটনায় লালমাই থানায় হত্যা মামলা করা হয়। এরপর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য সূত্রের সহায়তায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সুমনের অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ৩০০ টাকা। পথে তাজমিন চালককে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনেন। পরে বাসায় পৌঁছে দেয়ার কথা বলে সুমন অটোরিকশাটি নির্ধারিত পথ থেকে সরিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক দিয়ে বিজরা বাজার হয়ে লালমাইয়ের একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছে অটোরিকশা বন্ধ করে দিলে জায়গাটি অপরিচিত বুঝতে পেরে তাজমিন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সে গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে সুমন তাকে বাধা দেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় তাজমিন চিৎকার করলে সুমন তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাজমিন দুর্বল হয়ে পড়লে তাকে ধানখেতে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন সুমন। পরে ধানখেতের মাটিতে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন তিনি।
পুলিশ আরো জানায়, হত্যার পর তাজমিনের আইফোনটি নিয়ে হাতব্যাগটি ধানখেতে ফেলে দেন সুমন। এরপর ঘটনাস্থলে নিজের অটোরিকশা রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করেন সুমন। পরে ভাড়ায় চালিত অন্য একটি সিএনজিতে করে বাখরাবাদ এলাকায় যান। সেখানে একটি পুকুরপাড়ের ঝোপে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান তিনি।
গত শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে নিয়ে বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুরপাড়ের ঝোপের ভেতর লুকিয়ে রাখা তাজমিনের আইফোন উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। তার বাবা রেনাটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে রিজিওনাল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, চারদিন আগে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে তার কক্সবাজারে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে সে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় নামে। এরপর বাড়ি ফেরার জন্য অটোরিকশা ভাড়া করতে গিয়ে এ ঘটনার শিকার হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘বাসা থেকে বের হওয়ার পর ভুক্তভোগীর পরিবার কোনো জিডি করেনি। সে কেন বা কার সঙ্গে কক্সবাজার গিয়েছে, তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানতে পারব। আর এ ঘটনায় আরো কেউ জড়িত কিনা সবকিছুই আমরা তদন্ত করছি।’