সংগঠনটির দাবি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়িয়ে নয়, বরং এ খাতে লুণ্ঠন ও অপচয় বন্ধ করেই ভোক্তাদের জন্য মূল্যহার কমানো সম্ভব।
‘বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে লুণ্ঠন প্রতিরোধে গণবান্ধব সংস্কার চাই’—এ দাবিতে গতকাল সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সামনে মানববন্ধন করেছে ক্যাব। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রয়োজনীয় ট্যারিফ নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি শুরুর ঠিক ১ ঘণ্টা আগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৯টায় শুরু হওয়া মানববন্ধনে ক্যাব নেতারাসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী, রাজনৈতিক নেতা ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। ক্যাব জানায়, গণশুনানির স্থানে মানববন্ধন আয়োজনের জন্য বিইআরসি কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে অনুমতি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত শুনানির স্থানের সামনের সড়কের ফুটপাতে মানববন্ধন করতে হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন ধরে অস্বচ্ছতা, অদক্ষতা, অবৈধ মুনাফা ও বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত চার্জের কারণে ভোক্তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। এর দায় জনগণের ওপর না চাপিয়ে প্রথমে খাতটির অনিয়ম, অপচয় ও অযৌক্তিক ব্যয় বন্ধ করতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কোনো বিলাসী পণ্য নয়; মানুষের জীবন ও অর্থনীতির জন্য এটি অপরিহার্য সেবা। তাই এ খাতকে মুনাফা অর্জনের মাধ্যম না বানিয়ে জনসেবা হিসেবে পরিচালনা করতে হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় ভোক্তা ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় না নিয়ে মুনাফাভিত্তিক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দেয়। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে জনগণের সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, সেখানে অতিরিক্ত বেসরকারীকরণের মাধ্যমে মানুষের ওপর আরো বোঝা চাপানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’
সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘বিইআরসিকে বারবার জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান জানানো হলেও ভোক্তাদের দাবিগুলো যথাযথভাবে আমলে নেয়নি তারা। জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো কেন মুনাফাখোরদের স্বার্থ রক্ষার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে, সেই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।’
মানববন্ধনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সংস্কারে ১০ দফা দাবি তুলে ধরে ক্যাব। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিইআরসির স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আইনের কাঠামোগত সংস্কার; গণশুনানির ভিত্তিতে সব ধরনের নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের বেঞ্চমার্ক মূল্যহার নির্ধারণ; জ্বালানি অপরাধীদের বিরুদ্ধে ভোক্তা পক্ষের ফৌজদারি মামলা করার আইনগত অধিকার এবং ভোক্তা পক্ষের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাব করার অধিকার নিশ্চিত করা।
এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বেসরকারীকরণ বন্ধ, সরকারি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেবা মুনাফামুক্ত করা, লুণ্ঠনমুক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যয় ও মূল্যহার সংস্কার এবং মূল্যহার না বাড়িয়ে লুণ্ঠন ও অপচয় বন্ধের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ভর্তুকি ও মূল্যহার কমানোর দাবি জানানো হয়।
জ্বালানি খাতে অনিয়ম ও অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনারও দাবি জানায় সংগঠনটি।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা স্পষ্ট করে বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে তারা মূল্যহার বৃদ্ধির পরিবর্তে অনিয়ম, লুণ্ঠন, অযৌক্তিক ব্যয় ও অপচয় বন্ধের মাধ্যমে সাশ্রয়ী সেবা নিশ্চিত করতে চান। তাদের ভাষায় ‘লুণ্ঠন নয়, জনস্বার্থ; মুনাফা নয়, সেবা; মূল্যহার বৃদ্ধি নয়, সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাই’।