কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০

এদিন সকাল ৭টার দিকে ওই রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিটের চেষ্টায় সকাল ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়

কক্সবাজারের ইনানীতে মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস। আজ শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে এক ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৬ জন। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিন সকাল ৭টার দিকে ওই রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিটের চেষ্টায় সকাল ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়।

এ ঘটনায় আহত ও নিহতদের সবাই সবাই পর্যটক বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। প্রাণ হারানোদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন— ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫)।

আর আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তারা হলেন— মুগধা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল গণমাধ্যমকে জানান, আহতদের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। অপরজন পড়ে গিয়ে আহত হন, তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। দগ্ধ পাঁচজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁটি কাঠের তৈরি। এতে মোট রুম ছিল ৯টি। গতকাল শুক্রবার রাতে তিন রুমের পর্যটক চেকআউট হয়ে চলে যান। বাকি ৬ রুমে ১৬ জন পর্যটক ছিলেন।

এর আগে সকালে এক ক্ষুদে বার্তায় ফায়ার সার্ভিস জানায়, সকাল ৭টা ২৫ মিনিটের দিকে স্টেশন থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে ওই রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। তাদের দুটি ইউনিট সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন সকাল ১০টায় বলেন, রিসোর্টটির তিনটি তলাই কাঠের তৈরি ছিল। আগুনে পুরো স্থাপনাটি পুড়ে গেছে।

আরও