সিপিডির মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ফাহমিদা খাতুন

পুঁজিবাজার সংস্কারে টাস্কফোর্স গঠন হলেও কোনো অগ্রগতি নেই

পুঁজিবাজার সংস্কারে টাস্কফোর্স গঠন করা হলেও খুব একটা অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

পুঁজিবাজার সংস্কারে টাস্কফোর্স গঠন করা হলেও খুব একটা অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। একই সঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার নয় মাস পার করেছে। এখন নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার সময় হয়েছে।’

গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০২৪-২৫ তৃতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান ও গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে অবহেলা ও বাজার কারসাজির কারণে এখানে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেই সংকট চলমান রয়েছে। গত ১৬ বছরে পুঁজিবাজারের প্রকৃত মূল্য ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন খাতে সংস্কার করা হচ্ছে। পুঁজিবাজার সংস্কারে একটা টাস্কফোর্স করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে খুব একটা অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। পুঁজিবাজারে পাঁচটি চ্যালেঞ্জ আছে—নিম্নমানের আইপিও, আর্থিক প্রতিবেদনে অনিয়ম, বিও অ্যাকাউন্টে স্বচ্ছতার অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ ও সেকেন্ডারি মার্কেটে কারসাজি। এগুলোর উন্নতি করতে হবে।’

ফাহমিদা খাতুন আরো বলেন, ‘গত নয় মাসে ডিএসইতে বিভিন্ন সূচকের ওঠানামা দেখতে পাচ্ছি। ধারাবাহিকভাবে ডিএসই সূচক নিম্নমুখী থেকেছে। অভ্যন্তরীণ লেনদেনে কারসাজি অব্যাহত রয়েছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দুর্বল নজরদারি, প্রযুক্তির ব্যবহার না করা, অপরাধ যারা করছে তাদের শাস্তির আওতায় না আনাসহ বিভিন্ন কারণে পুঁজিবাজার শক্তিশালী হচ্ছে না।’

ব্যাংক খাতে সুশাসন আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন ফাহমিদা খাতুন।

বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। না হলে বিনিয়োগ আসবে না। এছাড়া একজন বিনিয়োগকারী এখানে এলে যেসব প্রতিবন্ধকতার শিকার হন, সেগুলো এখনো আমরা কাটিয়ে উঠতে পারিনি। বড় সমস্যা হলো আমরা চাহিদামতো গ্যাস দিতে পারছি না। গ্যাস না থাকলে কোনো বিনিয়োগ আসবে না, এলেও সেটি আলোর মুখ দেখবে না। কারণ উৎপাদনে তো যেতে পারবে না। এখন যেসব কারখানা রয়েছে তারাই সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগাতে পারছে না। অনেক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।’

রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জাতীয় নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি সরকারের উচিত নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা। অন্তর্বর্তী সরকার নয় মাস পার করেছে। এটি অনেক সময়। এখন তাদের নির্দিষ্ট করে একটি তারিখ অথবা সম্ভাব্য একটা তারিখ বলা উচিত।’

আরও