বাকৃবির গবেষণা

অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত মাংস উৎপাদনকারী রঙিন মুরগির জাত উদ্ভাবন

দীর্ঘ ১৫ বছরের গবেষণায় নতুন একটি রঙিন মুরগির জাত উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকরা।

এ জাতের মুরগি ৬২ সপ্তাহে ২০৫টি ডিম দিতে সক্ষম। চমৎকার খাদ্য রূপান্তর দক্ষতার পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক মুক্ত নতুন জাতটির মাংস উৎপাদন ক্ষমতা বেশি। ফলে খামারিরা নিরাপদ মুরগি সরবরাহের মাধ্যমে লাভবান হচ্ছেন।

প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) অর্থায়নে এ পুরো গবেষণা প্রকল্প পরিচালিত হয়েছে। গত ৩০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষণাটির চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়।

নতুন জাতের মুরগিটির উৎপাদনক্ষমতা সাধারণ মুরগির চেয়ে অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা জানান, এ মুরগির একদিনের বাচ্চার গড় ওজন প্রায় ৩৮ গ্রাম। প্রচলিত সোনালি মুরগির একদিনের বাচ্চার ওজন সাধারণত ২৬-২৮ গ্রাম হয়ে থাকে।

গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্যা। তিনি জানান, একদিনের বাচ্চার ওজনে প্রতি ১ গ্রাম বাড়ার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে বাজারজাতকরণের সময় মুরগির চূড়ান্ত ওজন প্রায় ৫০ গ্রাম পর্যন্ত অতিরিক্ত হয়। এ বাড়তি ওজন খামারিদের জন্য বেশি মুনাফা নিশ্চিত করবে।

বর্তমানে মাঠপর্যায়ে এর ব্যাপক সাড়া মিলছে। বাজার চাহিদার কারণে অনেক খামারি নির্ধারিত ৫০ দিনের পরিবর্তে ১০-১২ সপ্তাহ পর্যন্ত এ মুরগি পালন করছেন। এরপর প্রতি কেজি ৭০০ টাকা পর্যন্ত উচ্চমূল্যে বিক্রি করে তারা লাভবান হচ্ছেন।

অধ্যাপক বজলুর রহমান মোল্যা জানান, ভোক্তাদের চাহিদা ও খামারিদের লাভের কথা মাথায় রেখে জাতটি তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বিভিন্ন প্যারেন্ট লাইন সংরক্ষণ, নির্বাচন ও সংকরায়ণের মাধ্যমে এ নতুন লাইন উন্নয়ন করা হয়েছে।

গবেষণায় ‘সেক্স-লিংক হোয়াইট লাইন’-কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বর্তমানে এর সমজাতীয়তা বা হোমোজাইগোসিটি ৮৯ থেকে ৯৩ দশমিক ১১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। একটি জাতকে স্থায়ী রূপ দিতে এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া মুরগির পালকের রঙ নির্ধারণকারী ‘এসওএক্স-১০’ জিনের ডিলিশন শনাক্তে একটি সহজ পিসিআর পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ পদ্ধতি ভবিষ্যৎ প্রজনন কর্মসূচিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

ভোক্তা অধিকার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে ড. মোল্যা বিশেষ নিশ্চয়তা দিয়েছেন। ঢাকার একটি উন্নত গবেষণাগারে এ মুরগির মাংস পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় মাংসে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়নি। ফলে এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ।

উদ্ভাবনটির মাঠপর্যায়ে প্রসারের ওপর জোর দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘শুধু ল্যাবরেটরিতে জাত উদ্ভাবন করলেই হবে না। সে প্রযুক্তি ও সুফল খামারিদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়াই এ প্রকল্পের মূল দর্শন। এর মাধ্যমে দেশের নিরাপদ প্রাণিজ প্রোটিন উৎপাদন বাড়বে।

আরও