ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

উচ্চ শিক্ষার পরিবেশ ক্রমাগত অধঃপতিত হয়েছে

এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে আমাদের উচ্চ শিক্ষার পরিবেশ ক্রমাগতভাবে অধঃপতিত হয়েছে। বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যলয়গুলোয়।

এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে আমাদের উচ্চ শিক্ষার পরিবেশ ক্রমাগতভাবে অধঃপতিত হয়েছে। বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যলয়গুলোয়। এর পেছনের কারণগুলো আমাদের জানা। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষকদের লেজুড়বৃত্তিক দলীয় রাজনীতি, ছাত্ররাজনীতির নামে দখলদারত্ব এবং দুর্বৃত্তায়ন। কিন্তু আরেকটি বিষয় যেটি দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত ক্ষতিকর, সেটি হলো শিক্ষক নিয়োগের নিয়মনীতি না মানা। আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতাম, তখন পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়মনীতিগুলো ঠিকভাবে পালন করা হতো। কিন্তু গত দেড় দশকে প্রাথমিক পর্যায়ের প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগেও প্রচণ্ড অনিয়ম হয়েছে। এটি সাময়িক বা দলীয়করণের ব্যাপার নয়, এতে দীর্ঘমেয়াদে পুরো সিস্টেম পঙ্গু হয়ে পড়ার একটা আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে।

আবার শিক্ষা পরিবেশের এত অবনতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্যেও অনেক শিক্ষক আছেন, যারা ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিজ নিজ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের অত্যন্ত উঁচু গবেষক। এটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় না অনেক কারণেই। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে বা ক্লাবগুলোয় শুধু রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। কেন এ পরিবেশ হলো? কেন তারা নিজেদের আড়াল করে রাখেন? কী পরিবেশে এ ধরনের মেধাবী শিক্ষকরা কোণঠাসা হয়ে থাকেন? সেটি আমাদের বুঝতে হবে।

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রায় ৫৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়েছিল। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ—কাউকেই আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ থেকেও বোঝা যায়, শিক্ষাঙ্গনগুলোয় কী ধরনের রাজনৈতিক দলীয়করণ করা হয়েছে। একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সবাইকে চলে যেতে হয়েছে।

—ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, উপদেষ্টা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়

আরও