যশোরে
অনুষ্ঠিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) রিজিয়ন কমান্ডার ও ফ্রন্টিয়ার আইজি
পর্যায়ে চার দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলন শেষ হয়েছে। গতকাল দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যৌথ বিবৃতির মধ্য দিয়ে এ সম্মেলনের সমাপ্তি
টানা হয়। সম্মেলনে সীমান্ত হত্যা কমিয়ে আনাসহ ছয়টি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বিজিবির রংপুর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মোরশেদ আলমের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশ নেয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বিজিবির যশোর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহমেদসহ উভয় রিজিয়নের অধীন সংশ্লিষ্ট সেক্টর কমান্ডারগণ, বিজিবির স্টাফ অফিসার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এবং যৌথ নদী কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে বিএসএফ সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের আইজি আয়ুষ মানি তিওয়ারির নেতৃত্বে ৩৭ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশ নেয়।
গত ২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া সীমান্ত সম্মেলনে উভয় দেশের কর্মকর্তারা সীমান্ত হত্যা কমিয়ে আনা, পেশাদারত্বের সঙ্গে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন, ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে রাত্রিকালীন যৌথ টহল বৃদ্ধি, সীমান্তবর্তী এলাকার জনসাধারণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জনসচেতনতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ, অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান, মাদক পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানব পাচার, স্বর্ণ পাচার রোধ, আগামী দিনে যৌথ খেলাধুলা, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বিনিময়সহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা, উভয় পক্ষ পূর্বানুমতি ব্যতীত সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ না করা ও সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে বন্ধ থাকা উন্নয়নমূলক কাজগুলো জয়েন্ট ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের ব্যাপারে সম্মত হন।
সম্মেলন শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির রংপুর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন, ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্মেলন শেষ হয়েছে। সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা ও আহতের ঘটনা জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। এ প্রসঙ্গে বিজিবি-বিএসএফ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দেয়া যৌথ বিবৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় আনতে সম্মত হয়েছে।’
অন্যদিকে বিএসএফ সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের আইজি আয়ুষ মানি তিওয়ারি বলেন, ‘চারদিনের সম্মেলনে বেশকিছু বিষয় নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছছি আমরা। দুই দেশের মধ্যে এবং দুই বাহিনীর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে বিএসএফ বদ্ধপরিকর।’