বাগেরহাটের চার সংসদীয় আসন

ভোটের মাঠে বিএনপি প্রার্থীদের বড় বাধা বিদ্রোহীরা

দেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোর একটি বাগেরহাট। সুন্দরবনসংলগ্ন এ জেলার আয়তন ৫ হাজার ৮৮২ দশমিক ১৮ বর্গকিলোমিটার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারটি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্রভাবে ২৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

দেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোর একটি বাগেরহাট। সুন্দরবনসংলগ্ন এ জেলার আয়তন ৫ হাজার ৮৮২ দশমিক ১৮ বর্গকিলোমিটার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারটি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্রভাবে ২৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা পুরোদমে শুরু করেছেন নির্বাচনী প্রচারণা। তবে প্রতিটি আসনেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতা। তাদের মধ্যে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএএইচ সেলিম বাগেরহাট-১, ২ ও ৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। যদিও দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় এরই মধ্যে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে ভোটের মাঠে বিএনপির দলীয় প্রার্থীদের বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন তারা।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা ও বাগেরহাট-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী খায়রুজ্জামান শিপনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আসনভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-১ আসন। এখানে ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯০ হাজার ৮৩৮ ও নারী ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭২০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন দুজন।

আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন আটজন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএএইচ সেলিম পেয়েছেন ঘোড়া প্রতীক। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. মাসুদ রানা পেয়েছেন ফুটবল প্রতীক। দলীয় প্রতীক ধানের শীষে লড়বেন কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল। এছাড়া ভোটে লড়বেন জামায়াতে ইসলামীর মো. মশিউর রহমান খান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) আব্দুস সবুর শেখ, এবি পার্টির আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির স ম গোলাম সরোয়ার ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শামসুল হক।

আসনটিতে বিএনপির সাবেক দুই নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। অবশ্য বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে রয়েছেন।’

বাগেরহাট-২ আসনটি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিগত বছরগুলোয় দেখা গেছে, এ আসন থেকে যে দলের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন, সে দলই সরকার গঠন করেছে। দুই উপজেলা ও এক পৌরসভা নিয়ে গঠিত আসনটিতে ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩৯ ও নারী ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ২৬৫ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন পাঁচজন।

আসনটিতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তবে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচন করছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএএইচ সেলিম। এছাড়া ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ আতিয়ার রহমান।

অবশ্য বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ‘বিএনপি সুসংগঠিত দল। নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে আছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।’

রামপাল, মোংলা উপজেলা ও মোংলা পোর্ট পৌরসভা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-৩ আসন। ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৪ ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫০ এবং নারী ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫১০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন চারজন। অন্যান্য আসনের মতো এ আসনেও বিএনপি, স্বতন্ত্র, জামায়াত ও অন্যান্য দলের প্রার্থী রয়েছেন। আসনটিতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। তবে তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএএইচ সেলিম। এছাড়া এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল ওয়াদুদ শেখ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জিল্লুর রহমান ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার।

মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা উপজেলা ও মোরেলগঞ্জ পৌরসভা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-৪ আসন। বিগত দিনগুলোয় এখানে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন ছয়জন। তাদের মধ্যে বিএনপির সোমনাথ দে পেয়েছেন ধানের শীষ, জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল আলীম পেয়েছেন দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলনের মো. ওমর ফারুক পেয়েছেন হাতপাখা, জেএসডির আব্দুল লতিফ খান পেয়েছেন তারা, জাতীয় পার্টির সাজন কুমার মিস্ত্রি পেয়েছেন লাঙ্গল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাজী খায়রুজ্জামান শিপন পেয়েছেন হরিণ প্রতীক। এ আসনেও বিএনপির সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন খায়রুজ্জামান শিপন। যদিও স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিএনপির দলীয় প্রার্থী সোমনাথ দের ভাবনা ভিন্ন। তার দাবি, দলের চেয়ারম্যান সব জেনেই তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী তার সঙ্গে আছেন। একসঙ্গে কাজ করছেন। হিন্দু ধর্মীয় নেতা হওয়ার কারণে সনাতনীদের ভোট এককভাবে পাবেন তিনি।

আসটিতে ৩ লাখ ৮০ হাজার ৬৭৮ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯১ হাজার ৮১২ এবং নারী ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৬৩ জন। তিনজন রয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার।

আরও