নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল

রসিদ ছাড়াই ইসিজি পরীক্ষা গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা

হৃদরোগ নির্ণয়ে নওগাঁ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে ইসিজি বিভাগ। নিয়মানুযায়ী একবার ইসিজি করতে হলে সরকার নির্ধারিত ৮০ টাকা ফি দিতে হবে রোগীকে।

হৃদরোগ নির্ণয়ে নওগাঁ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে ইসিজি বিভাগ। নিয়মানুযায়ী একবার ইসিজি করতে হলে সরকার নির্ধারিত ৮০ টাকা ফি দিতে হবে রোগীকে। সরকারি রসিদে সেই ফি আদায়ে সার্বক্ষণিক কক্ষে নিয়োজিত থাকবেন একজন আউটসোর্সিং কর্মী। অভিযোগ রয়েছে দুই মাস ধরে রসিদ ছাড়াই বেশির ভাগ রোগীর ইসিজি করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত দামের দ্বিগুণ টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম বা ইসিজির মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া পরিমাপ করা হয়। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়াসহ অস্ত্রোপচারের আগে এ পরীক্ষা অনেকটা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি স্বল্প সময়ে নিশ্চিত হতে পারেন চিকিৎসকরা। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটের পর ইসিজি ইউনিটের দায়িত্ব পান আরাফাত হোসেন লেমন নামে আউটসোর্সিং কর্মচারী। লেমনের হয়ে সেখানে মৌসুমী ও জান্নাত নামে আরো দুজন আউটসোর্সিং কর্মচারী রসিদ ছাড়া টাকা আদায় করেন। জরুরি বিভাগে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১০০ রোগীর কাছ থেকে টাকা আদায় করে এ সিন্ডিকেট।

সরেজমিনে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে গেলে ইসিজি কক্ষে মাস্ক পরিহিত এক নারী কর্মচারীর দেখা মেলে। ওই সময়ে পাঁচজন রোগী ইসিজি করার পর কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। তাদের কারো হাতেই টাকা জমার রসিদ দেখা যায়নি। পরে নানিকে নিয়ে ইসিজি কক্ষে প্রবেশ করেন সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের নাহিদ হোসেন। মাস্ক পরিহিত ওই কর্মচারী ইসিজি শেষে তাদের কাছ থেকে ১৬০ টাকা নেন। তাৎক্ষণিক ইসিজি কক্ষে প্রবেশ করে ওই নারীর পরিচয় জানতে চাইলে নিজেকে আউটসোর্সিং কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দেন।

রসিদ ছাড়া টাকা আদায়ের কারণ জানতে চাইলে মৌসুমী আক্তার বলেন, ‘যারা আসছেন প্রত্যেকেই সংকটাপন্ন রোগী। তাই ইচ্ছে থাকলেও বেশ কয়েকজনকে রসিদ দেয়া সম্ভব হয়নি। কেউ রসিদ চাইলে তাদের অবশ্যই দেয়া হবে।’

হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে কথা হয় বদলগাছী উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রাম থেকে আসা কৃষক আবীর উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় হৃদরোগে আক্রান্ত স্ত্রী মলি বেগমকে নিয়ে জরুরি বিভাগে এসেছিলাম। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে ইসিজি করিয়েছি। রসিদ ছাড়াই ১৬০ টাকা নিয়েছেন আউটসোর্সিং কর্মচারীরা। পরে স্ত্রীকে ৬০৩ নম্বর বেডে ভর্তি করিয়েছেন।’

একই অভিযোগ করেন ৬০২ নম্বর বেডে ভর্তি থাকা নওগাঁ পৌরসভার কোমাইগাড়ী মহল্লার শিউলি বেগম। তিনি বলেন, ‘বুধবার বিকাল ৪টার দিকে ইসিজি ও ডায়াবেটিক পরীক্ষা করানোর পর আমার কাছ থেকেও রসিদ ছাড়া টাকা নেয়া হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আউটসোর্সিং কর্মচারী আরাফাত হোসেন লেমন বলেন, ‘আমি নিজে ইসিজি করি না। সবসময় ইসিজি ইউনিটে থাকতেও পারি না। আমার লোকরা সেখানে ইসিজি করেন। দিনে সর্বোচ্চ ২০টি ইসিজি হয়। তবে রসিদ ছাড়া কোনো টাকা নেয়া হয় না। তাই সিন্ডিকেটের কোনো প্রশ্নই আসে না।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ইসিজি ইউনিটে রসিদ ছাড়া টাকা আদায়ের সত্যতা পাওয়া গেছে। যে বা যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের প্রত্যেককে শোকজ করা হবে। তদন্তসাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থ্যা নেবে হাসপাতাল প্রশাসন।’

আরও