মেহেরপুরে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে মসলাজাতীয় ফসল একাঙ্গী চাষ। চলতি মৌসুমে ১১ হেক্টর জমিতে এ ফসলের আবাদ হয়েছে। কৃষি অফিসের তথ্যমতে, নয় মাসে বিঘাপ্রতি ১ থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ করে ৪-৬ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব। এদিকে কম সময়ে ভালো লাভ পাওয়ায় এ ফসল চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয় চাষীরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুরে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের মসলা চাষ হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একাঙ্গী চাষ বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে।
জানা গেছে, একাঙ্গী আদাজাতীয় একটি ভেষজ উদ্ভিদ। এটি ওষুধ প্রস্তুত ও প্রসাধনী তৈরির মূল কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মাছ শিকারের টোপ এবং রান্নার সুগন্ধি ও স্বাদ বাড়াতে মসলা হিসেবে এর ব্যাপক কদর রয়েছে। এটি হজমের সমস্যা, ঠাণ্ডাজনিত রোগ ও ব্যথা উপশমেও বেশ কার্যকরী।
গাংনী উপজেলার দেবীপুর গ্রামের কৃষক ইশতিয়াক আহমেদ চলতি মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে একাঙ্গী চাষ করেছেন। এর আগে তিনি এক বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলক এটি চাষ করেছিলেন। এতে সফলতা পেয়ে চলতি মৌসুমে তিনি আবাদের পরিধি বাড়িয়েছেন। ইশতিয়াক আহমেদ জানান, তিনি আধুনিক পদ্ধতির চাষাবাদ বেছে নিয়েছেন। গত বছর এক বিঘা জমিতে দেড় লাখ টাকা খরচ করে প্রায় ৪ লাখ টাকা লাভ করেছিলেন। বিঘাপ্রতি ৯০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ হলেও নয় মাসের মাথায় ৪ লাখ টাকার বেশি লাভ করা সম্ভব বলে তিনি জানান।
একই উপজেলার মনিরুল ইসলাম প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে একাঙ্গীর আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ‘নতুন উদ্যোক্তাদের জেনে-বুঝে ও সাহসের সঙ্গে কাজ করতে হবে। ভয় পেলে চলবে না। তবে এ চাষে প্রচুর সময় দিতে হবে। কম খরচ ও কম সময় দিয়ে বেশি লাভের আশা করা ভুল হবে।’
মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘একাঙ্গী চাষে উদ্ভিদের পাতা ও গোড়া পচে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। টানা বৃষ্টির পর আমার জমিতে পচন রোগ দেখা দিয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা ও ওষুধ দিয়েও স্বাভাবিক করা কঠিন হচ্ছে। ফলে শুধু লাভের কথা শুনে না বুঝে এলে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।’
একই এলাকার কুতুবুদ্দিন বলেন, ‘মনিরুল ইসলাম গতবার মাঠে অল্প পরিমাণ একাঙ্গী চাষ করেছিলেন। চলতি মৌসুমে অনেক জমিতে একাঙ্গী চাষ করেছেন। এর আগে লাভ করায় এবার এর চাষ আরো বাড়িয়েছেন তিনি। তার সফলতা দেখে আমিও একাঙ্গী চাষ করব।’
ঝোরপাড়া গ্রামের কৃষক মাসুদ জানান, একাঙ্গী চাষ লাভজনকের সঙ্গে ব্যয়বহুলও। এতে প্রতিদিন ১৫-২০ জন শ্রমিক লাগে। প্রতিনিয়ত কীটনাশক ও পরিচর্যা করতে হয়। বৃষ্টি বেশি হলে পচন রোগ ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে।
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘একাঙ্গী আবাদ লাভজনক। তবে চলতি বছর আবহাওয়ার পরিবর্তন ও মাটিতে ছত্রাকের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় একাঙ্গী ফসলে পচন রোগ দেখা দিয়েছে। এটি প্রতিরোধে কৃষকদের নিয়মিত পরিচর্যায় রাখতে হবে। সবসময় খেতের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। যাদের খেতে পচন রোগ দেখা দিয়েছে, আমরা তাদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী শাহনেওয়াজ জানান, একাঙ্গী একটি উচ্চমূল্যের ঔষধি ফসল। বাজারে এর চাহিদা ও দাম সবসময় ভালো থাকে। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে দেড় লাখ টাকা খরচ করে এক বিঘা জমি থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব।