এক যুগ আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করলেও অপসারণ হয়নি বেশির ভাগ ভবন

সম্প্রতি ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল।

সম্প্রতি ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী। এর পরও কয়েক দফায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যা দেশবাসীকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এ আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলেছে এক যুগ আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করার পরও অপসারণ না করা ১৩টি ভবন।

মিরসরাই পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে ঢাকার সাভারে রানা প্লাজা ধসের পর সারা দেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্তের নির্দেশ দেয় সরকার। শনাক্ত করে ওইসব ভবনের বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে সিলাগালা করার নির্দেশ দেয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় মিরসরাইয়ে বেশকিছু ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে তালিকা প্রণয়ন করা হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসন ও মিরসরাই পৌর কর্তৃপক্ষ ১৩টি ভবন ও মার্কেটকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। ভবনগুলোর মধ্যে কেএইচ জামান মঞ্জিল, মোমিনটোলা এলাকার মীর হাউজিং, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছাদেক বিল্ডিং, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত অহিদুননবীর দুই তলাবিশিষ্ট মার্কেট, নুরুল হুদা মার্কেট, নূরনবী মার্কেট, রেনু মিয়া মার্কেট, মোমিনটোলায় অবস্থিত ফজল ভবন, মিরসরাই তহশিল অফিস উল্লেখযোগ্য। ২০১৭ সালের ১১ জুন মিরসরাই পৌর কর্তৃপক্ষ ১৩টি ভবন মালিককে ভবনে অবস্থানরত ব্যক্তিদের সরিয়ে নেয়া এবং ভেঙে অপসারণের জন্য চিঠি দেয়।

পৌরসভা থেকে চিঠি পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত মার্কেটের মালিক মো. অহিদুননবী গং, নুরুল হুদা মার্কেটের মালিক নুরুল হুদা, নূরনবী মার্কেটের মালিক মো. নূরনবী, নজীর আহম্মদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবাসিক ভবনের মালিক হোসনের জমান, কোর্ট রোডে অবস্থিত আবাসিক ভবনের মালিক মৃত অধ্যক্ষ ছাদেকুর রহমান চৌধুরীর ছেলে, খায়ের মার্কেটের মালিক ফরিদ উদ্দিন গং, মোমিনটোলার আবাসিক ভবনের মালিক আমিনুল হক সিদ্দিকী, মিরসরাই সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মোমিনটেলার ৮৬ নম্বর আল ফজল ভবন, কলেজ রোডের মার্কেটের মালিক মো. সলিম উল্ল্যা, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ার্কশপ কাম পরিত্যক্ত গুদামের মালিক মো. রৌশনের জামান বাচ্চু, মো. বাহার, মো. মোজ্জামেল হক চৌধুরী, নাদেরুজ্জামান ও একই ওয়ার্ডের দোকান কাম গুদামের মালিক মোজাম্মেল হক। কিন্তু চিঠি দেয়ার অনেক বছর পেরিয়ে গেলেও দু-একটি ভবন অপসারণ ছাড়া অধিকাংশ ভবনে বসবাসরত ব্যক্তিদের সরিয়ে নেয়া হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি মিরসরাইয়ে রিখটার স্কেলে ৬ কিংবা ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, তবে ভবনগুলো ধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাই দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবন থেকে বসবাসরত ব্যক্তিদের সরিয়ে নেয়া প্রয়োজন।

সরজমিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত পৌরসভা কর্তৃক ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা একাধিক বাণিজ্যিক ভবন দেখা যায়। এসব ভবনে রয়েছে ফার্মেসি, সিমেন্ট দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এছাড়া উপজেলার কোর্ট রোডে অবস্থিত কেএইচ জামান মঞ্জিল, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছাদেক বিল্ডিংসহ একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে এখনো ঝুঁকি নিয়ে অনেকে বসবাস করছে।

এ বিষয়ে মিরসরাই পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী প্রদীপ চৌধুরী বলেন, ‘আমি তালিকা প্রণয়ন করার কয়েক বছর পর মিরসরাই পৌরসভায় যোগদান করি। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বাংলাদেশে ১৮২২ এবং ১৯১৮ সালে মধুপুর ফল্টে বড় ভূমিকম্প হয়। ১৮৮৫ সালে ঢাকার কাছে মানিকগঞ্জে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের ইতিহাস রয়েছে। নকশা না মেনে ভবন নির্মাণ ও গুণগত মানসম্পন্ন উপকরণ ব্যবহার না করায় ভূমিকম্পের বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

চলতি মাসে একাধিক ভূমিকম্পে নড়েচড়ে উঠেছে বাংলাদেশ। এতে নিহত হয়েছে কমপক্ষে ১০ জন। আহত হয়েছে অনেকে। যেকোনো বহুতল ভবনই ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকে। আর ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা ভবন ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে দিতে পারে বহুগুণ। মিরসরাইয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা ভবনগুলোও তাই আতঙ্ক বাড়াচ্ছে বলে মনে করেন সংশিষ্টরা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকার বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে এখন যেহেতু ভূমিকম্পপ্রবণ সময়, তাই জানমাল রক্ষার্থে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া উচিত।’

আরও