ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহারে পুঁজিবাজারে প্রতারণা ও স্ক্যাম উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে লোভনীয় অফার, ভুয়া প্ল্যাটফর্ম এবং এআই-এর মাধ্যমে কণ্ঠ ও চেহারা নকল করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ ও শিক্ষিত মানুষেরাও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
আজ সোমবার বিকালে ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টরস উইক’ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে এসব কথা উঠে আসে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই) এবং ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)-এর যৌথ উদ্যোগে ডিএসই টাওয়ারের মাল্টি-পারপাস হলে “ডিজিটাল ডিসেপশন অ্যান্ড স্ক্যাম এলার্ট” শীর্ষক এই সমাপনী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএসইসির কমিশনার তানবীর হাবিব রহমান, নাহিদ মাহতাব, মো. নাফিজ আল তারিক এবং হোসাইন সাহাদত ও ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় এক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) এর ভাইস প্রেসিডেন্ট আসিফুর রহমান, ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশের (আইসিএসবি) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহজাহান এবং সিএফএ সোসাইটির সভাপতি মাহতাব ওসমানী।
মাসুদ খান বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহারের ফলে পুঁজিবাজারে স্ক্যাম বা প্রতারণা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এর খপ্পরে পড়ে এখন শুধু সাধারণ মানুষ নন, অভিজ্ঞ ও শিক্ষিত মানুষেরাও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, পুঁজিবাজারের সুরক্ষা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্কে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর মধ্যে আইপিও নীতিমালায় আমূল পরিবর্তন এনে অডিট প্রক্রিয়া আরও কঠোর বা ফরেনসিক টাইপ অডিটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে দুই মাসের মধ্যে আইপিও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি ডাইরেক্ট লিস্টিং, মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়ন এবং ডেভিটেটিভ ও বন্ড মার্কেট চালুর প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।
ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং ক্যাপিটাল মার্কেটের ওপর মানুষের আস্থা ফেরাতে ডিজিটাল ডিসইনফরমেশন ও স্ক্যাম শক্ত হাতে দমন করতে হবে। পুঁজিবাজারে নেতিবাচক খবরের ছড়াছড়ি এবং সঠিক প্রচারণার অভাবের কারণেও অনেক সময় ম্যানিপুলেটররা সুযোগ নেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রবন্ধ উপস্থাপনায় আবু নুর মোহাম্মদ হাসানুল করিম বলেন, প্রযুক্তির আধুনিকায়ন ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রসারে ‘ডিজিটাল ডিসেপশন’ বা প্রতারণার ব্যাপ্তি এখন ম্যাসিভ আকার ধারণ করেছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহার করে কণ্ঠস্বর ও চেহারা নকল করা এবং এমনকি ডিএসইর ব্রোকারেজ হাউজের প্ল্যাটফর্ম হুবহু ক্লোন করে অ্যাকাউন্ট খোলার ভুয়া প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এই আধুনিক ও সূক্ষ্ম প্রযুক্তির ফাঁদে ফেলে প্রতারকরা আজ অভিজ্ঞ ও সচেতন মানুষকেও বিচলিত করে তুলছে।