ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার খুব কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে প্লাবিত হয়েছে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা এবং সদর উপজেলার গোকুন্ডা, পঞ্চগ্রাম ও খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের কিছু নিচু এলাকা।
জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প সূত্র জানায়, সোমবার ও মঙ্গলবার তিস্তার উজানে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে মঙ্গলবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে থাকে। খুলে দেয়া হয় তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের ৪৪টি গেট। এরপরও মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বিপদসীমার প্রায় ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়। তবে দুপুরের পর পানি কিছুটা কমে যায়। এ সময় বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়। সন্ধ্যা ৬টায়ও তা অপরিবর্তিত ছিল।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম বলেন, ঘোলাপানির কারণে নদীর তলদেশের উচ্চতা বেড়েছে। ফলে সামান্য পানি বাড়লেই বিপদসীমা অতিক্রম করার মতো হয়। যদি তিস্তার তলদেশ খনন করা না হয়, তাহলে আগামীতে সংকট আরো বাড়বে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কৃষকের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায় বলেন, এ বছর তিস্তা নদীতে তেমন বন্যা দেখা দেয়নি। যতটুকু পানি বেড়েছিল, সেটাকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছি। তবে তিস্তা মহা-পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সমস্যা কেটে যাবে।
তিনি আরো বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চলের যেসব এলাকা প্লাবিত হয়েছে, সেসব এলাকা জেলা প্রশাসন, জেলা কৃষি বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রয়েছে। পানি বাড়ায় তেমন ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা নেই।