চট্টগ্রামে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী

নাবিকদের বিদেশে কাজের প্রতিবন্ধকতা দূর করা হবে

দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার যে অপচেষ্টা চলছে, তা অসত্য ও বিভ্রান্তিকর।

নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, দেশের মেরিনাররা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্বশীল ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার যে অপচেষ্টা চলছে, তা অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। বাইরে আমাদের নাবিকরা যখন চাকরির পর জাহাজে উঠতে চান, সেখানে ভিসাগত কিছু সমস্যা তৈরি হয়। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কথাবার্তাও বলেছি। এ প্রতিবন্ধকতাগুলো আমরা যেকোনো মূল্যে দূর করতে চাই।

গতকাল চট্টগ্রামের জুলদিয়ায় বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং বিশ্ব সামুদ্রিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত যৌথ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট কাজী এবিএম শামীম উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের ৮০০ কোটি মানুষের অর্থনৈতিক গতিশীলতা ও বাণিজ্য নির্ভর করছে মাত্র ১৮-২০ লাখ মানুষের পারফরম্যান্সের ওপর। এ সাড়ে ১৮ লাখ সমুদ্রগামী মানুষের প্রচেষ্টায় বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ বাণিজ্য পরিচালিত হয়। ফলে এ খাতে নজরদারি, মনোযোগ এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ আরো বাড়াতে হবে।’

চট্টগ্রাম বন্দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক যে জাহাজ ব্যবস্থাপনা, কনটেইনার ও কার্গো ব্যবস্থাপনা প্রয়োজনের মতো ছিল না। পিসিটি, এনসিটি, সিসিটি, লালদিয়া, বে টার্মিনালে কিন্তু বিদেশী বিনিয়োগ, টেকনোলজিক্যালি আরো কীভাবে ডেভেলপ করা যায় সে বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। চিটাগংকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক হাব হচ্ছে। মোংলা পোর্টেও অর্থনৈতিক হাব হচ্ছে। বিশেষ ইকোনমিক জোন হচ্ছে। বিদেশী বিনিয়োগ আসছে। একই সময়ে যদি আমাদের সেবা ও দক্ষতার মান বাড়াতে না পারি, তাহলে সেটা আবার মুখ থুবড়ে পড়বে।’

দেশের নৌ ও শিপিং খাতের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দেশের নৌ খাতে প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোর কোনো ঘাটতি নেই।’

মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এবিএম শামীম বলেন, ‘নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন এবং সম্ভাবনার উৎকর্ষের মাধ্যমেই বঙ্গোপসাগরের সুফল বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যুক্ত করা সম্ভব। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি থেকে এ পর্যন্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাঁচ হাজারের বেশি মেরিনার দেশী-বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত থেকে দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অংকের রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। একাডেমির ১২৫ জনেরও বেশি প্রশিক্ষিত নারী মেরিনারও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

আরও